kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

খুচরা বিক্রয় খাত: অবস্থা বিষয়ে ব্র্যাকের জরিপ

নারী এবং প্রতিবন্ধীরা উপেক্ষিত

যৌন হয়রানি থেকে রক্ষার নীতিমালা মাত্র অর্ধেক কর্মক্ষেত্রে

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ জুন, ২০২১ ১৯:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারী এবং প্রতিবন্ধীরা উপেক্ষিত

নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা এবং সীমিত সামর্থ্যের ধারণার বশে খুচরা বিক্রয় খাতের নিয়োগকর্তারা নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মী হিসেবে নিতে চান না। মাত্র ২ শতাংশ নিয়োগকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজে নিতে চান।

খুচরা বিক্রয় কর্মীরা দৈনিক গড়ে ১১ ঘন্টা কাজ করেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই বার্ষিক ছুটি পেলেও মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটি পান না। মাত্র অর্ধেক কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষার নীতিমালা রয়েছে।

প্রান্তিক যুব গোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান দক্ষতা এবং উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ব্র্যাকের একটি বেসলাইন জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকেলে “খুচরা বিক্রয় খাতের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যত” শীর্ষক একটি বেসলাইন জরিপ প্রকাশনার ওয়েবিনার অনুষ্ঠানে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি(এসডিপি) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।   

জরিপে আরও জানা যায়, এই খাতে কর্মীদের দক্ষতার অভাব রয়েছে।  ৬৮ শতাংশ খুচরা বিক্রেতার মতে, তাদের কর্মচারীরা বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অক্ষম। ৫৪ ভাগ  বলেছেন, তাদের কর্মচারীদের যোগাযোগের দক্ষতা নেই, আর ৬৮ দশমিক ৬ ভাগ বলেছেন তাদের কর্মীদের পণ্য সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবের কথা।

তবে আশার কথা হচ্ছে, বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্র সুরক্ষা সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত। এই হার সিলেটে ৯৩,  চট্টগ্রামে ৮২, ঢাকায় ৭২ এবং খুলনায় ৫৬ শতাংশ । এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ৯৮, ঢাকায় ৯২, খুলনায় ৮৯ এবং সিলেটের ৫৬ শতাংশ খুচরা বিক্রেতারা কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং খাবার পানির ব্যবস্থা রেখেছেন।

ওয়েবিনারে একটি  প্যানেল আলোচনার পরে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, ব্র্যাকের এসডিপি প্রান্তিক যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান দক্ষতা এবং উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের দ্বারা একটি খুচরা বিক্রয় মডিউল এবং দক্ষতার মান তৈরি করা হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হওয়া প্রথম মডিউল।

গত বছরের অক্টোবর  থেকে  ডিসেম্বর মাস  পর্যন্ত এই জরিপটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে পরিচালিত হয়। খুচরা বিক্রয় খাতের মোট ৭২০ জন উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী এই জরিপের আওতাভুক্ত ছিলেন। এসডিপির “প্রোগ্রেসিং দি রিটেইল সেক্টর বাই ইম্প্রুভিং ডিসেন্ট এমপ্লয়মেন্ট (প্রাইড)” প্রকল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে খুচরা খাত এবং বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই খাতের অগ্রগতি, স্বল্প-আয়ের শহুরে যুব গোষ্ঠীর টেকসই জীবন-জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির জন্য একটি মডেল তৈরি করবে। আইকেইএ ফাউন্ডেশন এবং ইউবিএস অপ্টিমাসের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক এসডিপি এই বেসলাইন সার্ভেটি করেছে ইনোভিশন কন্সাল্টিং লিমিটেডের সহায়তায়।

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, জেমকন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন খান এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক এস এম শাহজাহান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক এসডিপি-র হেড অফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি (চলতি দায়িত্ব) তাসমিয়া তাবাসসুম রহমান।

উল্লেখ্য, ব্র্যাক খুচরা খাতের কর্মীদের জন্য শ্রেণীকক্ষভিত্তিক এবং শিক্ষানবীশভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ ভাগই নারী এবং ৭ ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। এই প্রশিক্ষণ পরিচালনায় বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে ব্র্যাক।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক এস এম শাহজাহান বলেন, “প্রশিক্ষিত লোকেরা নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেলে এই খাতটিতে প্রশিক্ষণ-ভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীকে অবশ্যই একটি সনদপত্র দিতে হবে যাতে একজন নিয়োগকারী তার দক্ষতার মূল্যায়ন করতে পারে।"

আসিফ সালেহ বলেন, “কর্মীরা দক্ষ হওয়ার পরেও পর্যাপ্ত প্রণোদনা না পেলে দক্ষতার বিকাশে আগ্রহী হবে না। এছাড়াও, খুচরা বিক্রয় খাতে কর্মসংস্থান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন করতে স্টেকহোল্ডারদের প্রচারণা চালানো দরকার। ব্র্যাক এবং অংশীদাররা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে, যাতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দক্ষ হওয়ার পরে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারেন।"

মানসিকতা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে শাহীন খান বলেন, “আমাদের সাংস্কৃতিক ও মানসিকতার পরিবর্তন হতে হবে। কর্মীদের দক্ষতা সংগ্রহের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা দরকার। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুগুলিও চাহিদার উপর নির্ভর করে নিয়মিতভাবে সংশোধন করা দরকার।"



সাতদিনের সেরা