kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনারে

নারী ইউএনওর বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশে ক্ষোভ ও নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ জুন, ২০২১ ১৬:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী ইউএনওর বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশে ক্ষোভ ও নিন্দা

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে মুক্তি যোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারনের সুপারিশের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। ব্ক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রাখী জামান, উই ক্যান এর প্ সুরাইয়া পারভীন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, আইইডি এর সঞ্চিতা তালুকদার ও স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের চন্দন লাহিড়ী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

মানববন্ধনে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন স্বাধীনতার ৫০ বছরে উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে এই ধরনের লজ্জাজনক বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। করোনাকালে নারী ঘরে নির্যাতিত, কিন্তু আজ নারীরা রাষ্ট্রীয়ভাবেও নির্যাতিত। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নারী তার নিজ যোগ্যতায় প্রশাসনে জায়গা করে নিয়েছে। নারীর অর্জনকে নষ্ট করার অধিকার কেউ রাখে না। নারী কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিনিধি। এই বক্তব্য সমতার নীতির সাথে ও সংবিধানের ১৭(১)-১১) অনুচ্ছেদ এবং ২৭ ও ২৮ নং অনুচ্ছেদের সাথেও সাংঘর্ষিক। এই রাষ্ট্র ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। সব জায়গায় এখনো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিরা মুখোশধারী হিসেবে আছে। এদের জবাবাদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তি যোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারনের সুপারিশের মধ্যদিয়ে প্রশাসনকে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তা করার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। নারী ইউন এনও বলে কোন পদ নেই। একই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে নারী পুরুষ উভয়ই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সাথে কাজ করার অধিকার ও যোগ্যতা অর্জন করে। সংবিধানের মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করার কথা বলা হয়েছে। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।

এসময় তিনি গার্ড অব অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারনের সুপারিশের যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রের কাছে তাদের শাস্তির দাবি জানান। গার্ড অব অনার একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান। এখানে ধর্মান্ধতার দোহাই দিয়ে নারীদের সরিয়ে রাখার সুপারিশ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি তিনি সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানান দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের মধ্যে এখনো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি লুকিয়ে আছে এদের প্রতিরোধ করতে প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। সংবিধান বিরোধী সুপারিশ প্রত্যাহার করে নারীর ক্ষমতায়নের পথ নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা