kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

অপহরণের দায়ে হুইপ ক্যাডার মীর কাসেম কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০২১ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণের দায়ে হুইপ ক্যাডার মীর কাসেম কারাগারে

দিনদুপুরে ব্যবসায়ী অপহরণের প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা মীর কাসেমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ। সরকারদলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মাহবুবুল বশর বুলু অপহরণ মামলা ঝুলছে।

গ্রেপ্তারকৃত মীর কাসেম পটিয়ার খরনা ইউনিয়নের মৃত আবু ছালেহর পুত্র। মীর কাসেম ১২ জুন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুবুল বশর বুলুকে কমলমুন্সির হাট থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে।

পটিয়া থানা পুলিশ অপহরণের সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর মাহবুবুল বশর বুলুকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মাহবুবুল বশর বুলু বাদী হয়ে ওই রাতেই পটিয়া থানায় মীর কাসেমকে প্রধান আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিশ-পঁচিশজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

পটিয়া থানা সূত্র জানিয়েছে, অপহরণের সংবাদ পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী মাহবুবুল বশর বুলুকে উদ্ধার করি। অপর অভিযানে রাত ৯টার দিকে পটিয়া বাজার এলাকা থেকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা তার রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী মাহবুবুল বশর বুলু জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে মীর কাসেমের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারি খাল খননের কাজ করেন। কাজের বিল উত্তোলন করে দুজনের মধ্যে লভ্যাংশসহ যাবতীয় ব্যাবসায়িক লেনদেন শেষ হয়ে যায়। এর পরও তিনি বাড়তি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে হুমকিধমকি আসছিলেন। ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মীর কাসেম একদল সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে। তারা আমাকে গাড়ির মধ্যেই অনেক মারধর করে। প্রথমে পাহাড়ের দিকে নিতে থাকলেও পরে গাড়ি ঘুরিয়ে বদর আউলিয়া ইবতেদায়ি মাদরাসার মাঠে নিয়ে যায়। সেখানেও অনেক মারধরের একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। অনেক পরে যখন জ্ঞান ফিরে, তখন দেখি মাদরাসার একটি কক্ষে আমার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা। পুলিশ আসছে এমন খবর পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। আমার শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ, মনে হচ্ছে বাঁ পাশের একটি হাড় ভেঙে গেছে।

হুইপের এই অনুসারীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য অনেক চাপ সৃষ্টি করা হয়। হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়িয়ে নিতে অনেক তদবির করেন। থানা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্রয়ে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মীর কাসেম। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। ওই সিন্ডিকেটটি প্রতিনিয়ত নানা বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েই চলেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিতর্কিত হুইপ সামশুল হক চৌধুরী পেছনে থাকায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করার সাহস দেখান না।



সাতদিনের সেরা