kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড-এ

বিআইডব্লিউটিএর নির্মাণাধীন ১০ টাগ বোটের কিল লেয়িং অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক   

১২ জুন, ২০২১ ২০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিআইডব্লিউটিএর নির্মাণাধীন ১০ টাগ বোটের কিল লেয়িং অনুষ্ঠিত

নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড-এ বিআইডব্লিউটিএ-র জন্য ১০টি ১২টন বোলার্ড পুল টাগ বোটের কিল লেয়িং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১২-০৬-২০২১) নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এ আয়োজিত কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণাধীন এসব টাগ বোটের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২৮ মিটার, প্রস্থ ৮.৫ মিটার এবং প্রতি ঘণ্টায় ১১ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম।

টাগ বোটগুলো নির্মাণে গত ২৩ মে ২০২১ তারিখে বিআইডব্লিউটিএ ও নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ-র আরো ৭টি টাগ বোট নির্মাণের চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নদী রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ তাদের নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ড্রেজার নন-প্রপেলার হওয়ায় একে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের জন্য টাগ বোটের প্রয়োজন হয়। নির্মিতব্য এই টাগ বোটসমূহ যে কোনো আকারের ড্রেজার খুব সহজেই এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় নিতে সক্ষম হবে। এই টাগ বোটগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ-র নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা যায়।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এটি ব্রিটিশ কোম্পানী দ্বারা পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর এটি বিআইডিসি এবং পরে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই শিপইয়ার্ড দেশের প্রথম সামরিক জাহাজ বিএনএস পাবনা নির্মাণ করা হয় এরপর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য আরো চারটি জাহাজ নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখতে পারেনি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের পর থেকে ধীরে ধীরে এটি একটি লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত লাভ করছে এবং দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিকট সফলতার সাথে বোট/জাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম হচ্ছে।

এ ধরনের বোট তৈরীর ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে বাংলাদেশকে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হতো। এখন থেকে দেশেই এ ধরণের উন্নতমানের বোট তৈরী সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। বোটসমূহ নির্মাণের মাধ্যমে নারায়াণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।



সাতদিনের সেরা