kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বললেন

‘যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না’

কবি ফররুখ আহমদের বসতবাড়ি অক্ষুন্ন রেখে রেল লাইন দাবি

অনলাইন ডেস্ক   

১২ জুন, ২০২১ ১৯:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না। তাই সমাজে তথা রাষ্ট্রে যেসব গুণী ব্যক্তি বাস করেন তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া আমাদের কর্তব্য। তিনি কবি ফররুখ আহমদের স্মৃতিবিজড়িত বসত বাড়ি অক্ষুন্ন রেখে রেল লাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন এ গুনিকে অসম্মান না করাই হবে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গৌরবের।

আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মানবতাবাদী কবি ফররুখ আহমদের বসত-ভিটা আক্রান্ত: ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয় ও তাঁর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

জাতীয় স্মরণ মঞ্চের সভাপতি প্রকৌশলী আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায়  বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক কবি অধ্যাপক আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, কাদের গনি চৌধুরী, বাচিক শিল্পী এ্যাড. নাসিম আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাবেক সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, কবি ফররুখ আহমদের পুত্র মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।

প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ও কবি ফররুখ আহমদ মানবতার কবি। মানবতার জাগরণের কবি। ফররুখ আহমদ এদেশের মানুষের জাগরণের কথা তার কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি কবি ফররুখ আহমদও বাংলা সাহিত্যিকে সমৃদ্ধ করেছেন। সরকারের উচিত তাকে সম্মান দেয়া এবং তার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি যাতে রেল লাইন থেকে রক্ষিত থাকে সেই দাবি সরকারের নিকট ব্যক্ত করেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,ফররুখ আহমদ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ঘটনার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফররুখ আহমদ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ব্রিটিশ-বেনিয়ারা এদেশ থেকে তাদের লোলুপতা ও অপশাসন তুলে লেজ গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর ভারত বিভক্তি হলে পাক শাসকেরা রাষ্ট্রীয় ভাষা নিয়ে জোচ্চুরি করতে আরম্ভ করে। সে সময় বাংলা ভাষার পক্ষে কবি ফররুখ আহমদ তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে জনমত তৈরি করেন।'উর্দু বনাম বাংলা' নামক ব্যঙ্গকবিতায় ১৯৪৫ সালেই তিনি তীব্র বিদ্রূপ হেনে লিখেছিলেন, 'দুই শো পঁচিশ মুদ্রা যে অবধি হয়েছে বেতন/বাংলাকে তালাক দিয়া উর্দুকেই করিয়াছি নিকা'।



সাতদিনের সেরা