kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে পেতে দাদা-নানার লড়াই

ওমর ফারুক   

১২ জুন, ২০২১ ০৩:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে পেতে দাদা-নানার লড়াই

মা মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বাবা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার হত্যা মামলার আসামি হয়ে এখন কারাগারে। এ অবস্থায় তাঁদের দুই সন্তানকে কাছে রাখতে দাদা ও নানা নেমেছেন আইনি লড়াইয়ে। এর মধ্যে ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহির ও মেয়ে তাবাচ্ছুম তাজনিন টাপুরের দাদা আবদুল অদুদ মামলা করেছেন মাগুরার পারিবারিক জজ আদালতে। আর তাদের নানা মোশাররফ হোসেন মামলা করেছেন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুইবার মামলার শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল কিন্তু মামলার বিবাদীরা উপস্থিত না হওয়ায় নতুন করে আগামী ১৫ জুন শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোশাররফ হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল আক্তারের ভাই অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, মামলার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার কোনো কাগজপত্র তাঁরা পাননি।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী। সন্তান মাহিরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এরপর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের নামে একটি মামলা করেছিলেন। পরে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। বর্তমানে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফেনী কারাগারে বাবুল আক্তার।

মিতু হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তারের সঙ্গেই ছিল তাঁদের দুই সন্তান। গত ১২ মে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করার পর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ইসমত জাহান আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে সংবাদ বের হয়। মোশাররফ হোসেন নাতি-নাতনিকে তাঁদের কাছে পেতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে বাবুল আক্তারের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে কাউকে পায়নি। এর পর থেকে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাহির ও টাপুরের কোনো খোঁজ না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন গত ১৯ মে পিটিশন মামলা দায়ের করেন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বাবুল আক্তারের বাবা, ভাই, বোন ও বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ইসমত জাহানকে।

বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, মামলা দায়েরের পর বিবাদীদের গত ৩১ মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩১ তারিখ তাঁরা কেউ আসেননি। এ অবস্থায় নতুন করে ৮ জুন আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের ঠিকানায় নির্দেশনা পাঠানো হয়। গত ৮ তারিখেও তাঁরা শুনানিতে হাজির হননি। পরে আগামী ১৫ জুন নতুন করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আসামিরা মিতু হত্যাকারীদের সহযোগী, তাঁরা যেকোনো সময় শিশুসন্তানদের ক্ষতি করতে পারেন। বাদী তাদের আনতে গেলে আসামিরা তাদের গোপন করে রাখেন।’ এজাহারে দুই শিশুকে উদ্ধার করে মোশাররফ হোসেনের জিম্মায় দেওয়ার অনুরোধ জানান আদালতকে। 

অন্যদিকে বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল অদুদ মিয়া তাঁদের নাতি-নাতনিকে তাঁদের সঙ্গে রাখার জন্য মামলা দায়ের করেছেন মাগুরার আদালতে। বাবুল আক্তারের ভাই অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর বাবা আবদুল অদুদ বাদী হয়ে গত ১৭ মে মাগুরার সদর পারিবারিক জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে মিতুর মা-বাবাকে। তিনি জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে দ্বিতীয় বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের নামও রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর বাবুল আক্তারের সঙ্গে ছিল তাঁর দুই সন্তান। গত ৭ মে বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় তাঁর বাবা আবদুল অদুদের কাছে তাঁর ছেলে-মেয়েকে বুঝিয়ে দেন। বাবুল আক্তার পুলিশ হেফাজতে থাকার কারণে আবদুল অদুদ তাদের একমাত্র অভিভাবক। শিশু দুইজন তার দাদার অভিভাবকত্বে থাকলে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। তাদের ভরণ-পোষণে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। মাগুরার পারিবারিক জজ আদালতে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯-এর ২৪ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই এ মামলার শুনানি রয়েছে।



সাতদিনের সেরা