kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

গুজব ও অপপ্রচার বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

জুনাইদ আহেমদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

১১ জুন, ২০২১ ০২:১১ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



গুজব ও অপপ্রচার বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

দিনবদলের সনদ নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দলটি ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই রূপকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেছেন, এটির সুফল যেমন মিলছে, উল্টোদিকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চক্র সরকারবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।  সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি হায়দার আলী ও নিজস্ব প্রতিবেদক জয়নাল আবেদীন। 

 

কালের কণ্ঠ : ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দিনবদলের সনদ নিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। ওই সনদে অন্যতম ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কতটা সফল?

জুনাইদ আহেমদ পলক : আমি বলব, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। লক্ষ্যও শতভাগ অর্জিত হয়েছে। যে চারটি ভিত্তির ওপর ডিজিটাল বাংলাদেশের কৌশলপত্র নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী ১২ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। এখন গ্রাম পর্যন্ত ফোরজি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক্যাল কেবল গেছে। আইটি খাতে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সার্ভিস, ফ্রিল্যান্সিং মিলিয়ে ১৫ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট আর্নিং অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। হাতে গোনা ১০ থেকে ১৫টির জায়গায় এখন ৫১ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট। সামগ্রিকভাবে আইসিটি বিভাগ অক্সিজেনে পরিণত হয়েছে। কারণ আপনি যেদিকেই যান না কেন, আইসিটিকে সম্পৃক্ত করতেই হবে। 

 

কালের কণ্ঠ : করোনাকালে মানুষ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছে। এটি তো নিঃসন্দেহে ডিজিটাইজেশনের সুফল...।

জুনাইদ আহেমদ পলক : নিঃসন্দেহে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, বিনোদন, এমনকি বিচারিক ব্যবস্থা পর্যন্ত অনলাইননির্ভর হওয়ার সুফল এসেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন ১৪ মাসে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের পুরোপুরি সুফল ভোগ করেছি। গ্রামের মানুষকে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে। চর, দ্বীপ, পাহাড়ের মতো দুর্গম অঞ্চলেও আমরা ইন্টারনেট নিয়ে যাচ্ছি। কোনোভাবেই কেবল নেওয়া যাচ্ছে না—সে রকম ১০০টি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছি। তবে আমাদের লক্ষ্য বহুদূর। এখন আমরা যে বীজ বপন করছি, ২০৪১ সালে তার সুফল পাব। আমরা হার না মানা মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

 

কালের কণ্ঠ : করোনাকালে গ্রামীণ পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসতে পারেনি। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখানে ইন্টারনেটের মূল্য বেশি, গতি কম। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

জুনাইদ আহেমদ পলক : এটা সত্যি। তবে খেয়াল করে দেখুন, আট বছর আগে ৪০ শতাংশ ঘরেও বিদ্যুৎ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাই ছিল ৫৬ লাখ। পঁচাত্তরের পর ২১ বছরেও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ১৯৯২ সালে বিনা মূল্যে সাবমেরিন কেবল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এটি নেয়নি। ওই সময় এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে দেশ ২০ বছর এগিয়ে যেত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করে, তখন অনেকে এটিকে ঠাট্টার ছলে দেখেছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে প্রমাণিত হয়েছে এটাই ছিল যুগোপযোগী পরিকল্পনা।

 

কালের কণ্ঠ : প্রযুক্তির সুফল অনেক, নেতিবাচক দিকও কম নয়। টিকটক, লাইকিসহ অনেক ক্ষতিকর অ্যাপসের মাধ্যমে নারীপাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধও হচ্ছে। এসব বন্ধের বিষয়ে আপনাদের কোনো চিন্তা আছে কি না?

জুনাইদ আহেমদ পলক : কোনো ধরনের রেগুলেশন ছাড়াই অ্যাপগুলো চলছে। এ ধরনের অ্যাপগুলোর কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে বিকৃত সংস্কৃতিকে তারা উৎসাহ দিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে এটি এখন আলোচনায় আসছে। আমাদের ধর্মীয় এবং সংস্কৃতিতে আঘাত করে এবং নৈতিক স্খলন হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রতিরোধ করতে চাই। টিকটক, পাবজিসহ ক্ষতিকর যে অ্যাপগুলোতে ছেলে-মেয়েরা আসক্ত হয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, সেগুলো বন্ধের বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা আইসিটি বিভাগ থেকে এসব অ্যাপের বিকল্প উদ্ভাবনের চিন্তা করছি। এরই মধ্যে ‘বৈঠক’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম উদ্ভাবন করেছি; যেটি জুমের মতোই। এটি এখন পরীক্ষামূলক চলছে। হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে ‘আলাপন’ তৈরি করছি।

 

কালের কণ্ঠ : বিদেশে বসে একটি চক্র দেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার চালিয়ে যাওয়ার কথা শোনা যায়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে?

জুনাইদ আহেমদ পলক : বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটি গণমাধ্যমসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের ১৭ কোটি মানুষ যেমন সুফল পাচ্ছে, উল্টো দিকে একটি গোষ্ঠী ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তিটাকে ব্যবহার করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একটি দেশবিরোধীচক্র বায়ান্ন সালেও যখন ভাষার আন্দোলন চলছিল তখনো তারা অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল। তখন গুজব ছড়ানো হতো যে বাংলা হচ্ছে হিন্দুদের ভাষা। ভাষা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ফিজিক্যাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ছড়িয়েছিল। দেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক চেতনার গোষ্ঠী পাকিস্তানের দোসররা অপপ্রচার চালিয়েছিল, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কয়েক বছর আগে কক্সবাজারের রামুতে সাম্প্রদায়িক শক্তি গুজব ছড়িয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে উসকানি দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। আমাদের জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একইভাবে পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর দিকে গুজব ছড়ানো হয় এ সেতুর জন্য শিশুদের মাথা লাগবে। এ জন্য ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়; যার কারণে রেণু নামের একজন মাকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।

 

কালের কণ্ঠ : এটি কিভাবে আপনারা মোকাবেলা করছেন?

জুনাইদ আহেমদ পলক : আমরা খুঁজে দেখব যে এই অপপ্রচারের পেছনে কী ইস্যু কাজ করছে। দেশবিরোধী চক্রান্তটি দেশের ভেতর কিংবা বাইরে থেকে এটি করছে। কেউ কেউ অর্থের স্বার্থে এটি করছে। আবার অনেকে দেশবিরোধী চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিদেশে বসে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটির বেশির ভাগ উদ্দেশ্যই হলো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো তৎপর। তবে আমরা সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার থেকে রক্ষা করতে তৎপর আছি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা টিম কাজ করছে। বিভিন্ন কার্যক্রমকে ডিজিটাইজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে যে হামলাগুলো হচ্ছে, সেগুলো ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জোট বা যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। বিটিআরসির মাধ্যমে আমরা যখন অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিই, তখন ফেসবুক, ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাত দেখায়।

 

কালের কণ্ঠ : এ ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উপায় কী?

জুনাইদ আহেমদ পলক : আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জিডিপিআর করেছে। সেখানে তারা বলেছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকদের তথ্য-উপাত্ত যদি ফেসবুক-গুগল ব্যবহার করতে চায়, অবশ্যই তাদের স্থানীয়ভাবে ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে হবে। একই রকম আইন করেছে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর। যেখানে ডাটা পারনালাইজেশন লোকালাইজেশন করা হচ্ছে। সে আইনগুলোর অনুকরণে আমরা ডাটা প্রটেকশন আইনের খসড়া করেছি। সেটি এখন যাচাই-বাছাই চলছে। এটা হলে ফেসবুক গুগলসহ যারা ব্যাংকিং সলিউশন দিচ্ছে তারা বাংলাদেশের মাটিতে তথ্যগুলো রাখতে বাধ্য হবে। এসব প্ল্যাটফর্মে কেউ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে তাদের আইনের আওতায় আসতে বাধ্য করতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ : বিদেশে বসে যে সংঘবদ্ধচক্র দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আপনারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কিভাবে সমন্বয় করছেন?

জুনাইদ আহেমদ পলক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা তিন দফা বৈঠক করেছি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে দেশের বাইরে বসে ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। তাদের প্রতি যেন সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগ করা হয়, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন দেশ বিষয়টিকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কারণ এই চক্রটি যখন অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা যে বুস্টিং করে তাতে সংশ্লিষ্ট দেশেরও আয় হচ্ছে। ফলে তারা এটিকে আর বন্ধ করতে চায় না। ব্যবসার স্বার্থে অনেক দেশ এসব অনৈতিক কাজকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমরা প্রটেকশন আইন করতে যাচ্ছি।

 

কালের কণ্ঠ : বিশেষ করে ফেসবুককেই অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে অপরাধীদের ধরার প্রক্রিয়াটি সহজ করতে ফেসবুকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন মনে করেন কি?

জুনাইদ আহেমদ পলক : ২০১৬ সালেই আমরা ফেসবুককে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম। যদিও তখন এটি নিয়ে খুব সমালোচনা হয়েছিল। ২০০৮ সালের আগে দেশে মাত্র ৩৮ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিল। এখন সেটি চার কোটির কাছাকাছি। বেসিক জ্ঞান না জানা অনেকেও ফেসবুকে ঢুকছে। নিজের অজান্তে তথ্য দিচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া আইডি খুলেও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করার জন্যই আমরা ফেসবুককে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম। আইসিটি বিভাগ থেকে ফেসবুককে আবারও প্রস্তাবটি দিতে যাচ্ছি। তারা যেন জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদটি বাধ্যতামূলক করে।

 

কালের কণ্ঠ : সাইবার হামলা থেকে দেশকে রক্ষার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?

জুনাইদ আহেমদ পলক : রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য সাইবার একটি হুমকি। আগে একটি দেশ আরেকটি দেশকে বোমা নিক্ষেপ করত। এখন সাইবার হামলা দিয়ে তার থেকেও বিধ্বংস করে দিতে পারে। এ জন্য আমরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছি। সরকার যদি আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়, তাতেও সাইবার নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা যাবে না। যদি আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নাগরিকদের সবাই সচেতন না হয় তাহলে এটি প্রতিরোধ করা কঠিন হবে। সে জন্য আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে সেফ ইন্টারনেট বিষয়ক কার্যক্রম চলছে। যেখানে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়াদি জানছে।

 

কালের কণ্ঠ : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করতে আইসিটি বিভাগের ভূমিকা কী হবে?

জুনাইদ আহেমদ পলক : জয় ভাইয়ের একটি ফিলোসফি হলো, ‘অনুকরণ কোরো না, উদ্ভাবন করো।’ আমরা সে ধরনের কার্যক্রমকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এটুআইয়ের উদ্ভাবন একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ই-কমার্সে ব্যাপক বিপ্লব সাধন হয়েছে। ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সাজানো হয়েছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থায়। অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমাদের সক্ষমতাও বেড়েছে। পাশাপাশি তথ্যও সংরক্ষিত থাকল। ই-নথি, ডাটা সেন্টার গত পাঁচ বছরে আড়াই কোটি ই-ফাইল সম্পাদন করেছি। করোনাকালে এক দিনের জন্যও অফিস কার্যক্রম থেমে থাকেনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে দায়িত্ব নেওয়ার মতো দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা হবে। দেশজুড়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। স্কুল অব ফিউচার নামের নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছি। যেখানে ৩০০টি মডেল স্কুলকে নিয়ে কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডিজিটাল শিক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সচেতন হবে। আমাদের ডিজিটাল সক্ষমতা এবং অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। ফলে করোনাকালে আমরা অনেকটা রাতারাতি অনলাইনে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি।

 

কালের কণ্ঠ : প্ল্যাটফর্ম বদলালে অপরাধ কর্মকাণ্ড কমবে না। সে ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া গতিশীল এবং সর্বোপরি সাইবার নিরাপত্তায় আরো বেশি নজরদারির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন কি?

জুনাইদ আহেমদ পলক : তরুণ প্রজন্মের কাছে একটাই আহ্বান, দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণদের সামনে তিনটি মারাত্মক শত্রু—সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী, মাদক ও দুর্নীতি। এই তিন শত্রু থেকে তরুণদের মুক্ত রাখতে পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গড়া এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যেন বাংলাদেশের তরুণরা নেতৃত্ব দিতে পারে, সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে তরুণদের প্রস্তুত করা হবে।



সাতদিনের সেরা