kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

ফের করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি

চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০২১ ০২:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি

গত বছর বহুল আলোচিত জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনার পর আবার একই ধরনের কাণ্ড ঘটেছে আরো চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বিদেশগামী যাত্রীদের কয়েকজনের করোনা পরীক্ষার জাল সনদ ধরা পড়লে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারিতে আসে করোনা পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত ওই আরটি-পিসিআর ল্যাবগুলো। সনদ জালিয়াতির অভিযোগে ওই সব ল্যাবে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ৯ জুন এই আদেশ জারি করা হয়।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্টিমজ হেলথকেয়ার বিডি লিমিটেড ও মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেড (মিরপুর ব্রাঞ্চ)। একই সঙ্গে মহাখালীতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ পরিচালিত নমুনা সংগ্রহের বুথের কার্যক্রম স্থগিত এবং  প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান করে সত্যতা পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবহিত করেছি। এখন আইনগত দিকটি তারা দেখবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিদেশগামী যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই বেসরকারি ল্যাবগুলো নমুনা সংগ্রহের জন্য নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে বুথ স্থাপন করে। বেশি কমিশনের আশায় একটি চক্র করোনা পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্তি এবং নিশ্চিত নেগেটিভ ফলের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশগামী যাত্রীদের নিজেদের ল্যাবে নিয়ে যায়। এ ছাড়া পজিটিভ ফল পাওয়া অনেক যাত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেগেটিভ ফল পাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলে ওই চক্র মাথাপিছু ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী বিদেশের বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর পরীক্ষা কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পরই ওই চারটি ল্যাবের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এমন অনিয়ম রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত ল্যাবগুলোকে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশগামীদের করোনা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বেসরকারি চারটি ল্যাব বন্ধ করে দেয়।

গত ৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা আট দফা নির্দেশনায় রয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবগুলোর নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহের ফরম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার সনদ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন-মোবাইল নম্বর প্রমাণক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। সাত দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কোনো বিদেশগামী যাত্রী করোনা পজিটিভ হলে তিনি কমপক্ষে সাত দিন পরে শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময়ে যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন সেই ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন। কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো বিদেশগামী যাত্রীর করোনার নমুনা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে তিনি গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছেন কি না। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাঁকে সাত দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

গত বছর করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে জোবেদা খাতুন হেলথকেয়ারের (জেকেজি) চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী, তাঁর স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা হয়। ওই মামলায় সাবরিনা, আরিফসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর প্রতারণাসহ তাঁর নানা কুকর্মের তথ্য প্রকাশিত হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।



সাতদিনের সেরা