kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

টিকটকের আড়ালে অপকর্ম ভাবাচ্ছে সরকারকেও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুন, ২০২১ ০২:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিকটকের আড়ালে অপকর্ম ভাবাচ্ছে সরকারকেও

অনলাইনে ফাঁদে ফেলে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। টিকটক, লাইকি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের আড়ালে পাচারকারী চক্রের ওত পেতে থাকার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে শুধু তদন্ত নয়, এই অ্যাপগুলো বন্ধ বা নিষিদ্ধের জোরালো দাবি উঠছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে। খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকেও অ্যাপগুলো নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। সরকারের দুই মন্ত্রীও উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘এসব অ্যাপ সহজলভ্য হওয়ায় যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা কী সব অশ্লীল ও উদ্ভট ভিডিও বানাচ্ছে, যেগুলো আরো অনেককে খারাপ পথে টেনে নিচ্ছে। গোটা একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে। টিকটক ও লাইকি যারা করছে, তাদের বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। এসব অ্যাপ বন্ধ করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’

আলোচিত এসব অ্যাপ বন্ধের প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। এর খারাপ প্রভাব আছে। বিষয়টি উদ্বেগের। র‌্যাবপ্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। তাঁরা যদি মনে করেন টিকটক বন্ধ করা দরকার, তাহলে এ বিষয়ে আমাদের চিঠি দিয়ে জানালে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে আমার জানা মতে, এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি। তাঁর পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসে, আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার যথাযথ বাস্তবায়ন করব।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, টিকটক-লাইকিসহ বিতর্কিত অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। গত শনিবার রাজধানীতে ‘কিশোর অপরাধ বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, টিকটক-লাইকিসহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৮২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকে। বিভিন্ন অপরাধের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও অনেকাংশে দায়ী। প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধ করে এখন আর কেউ পার পাচ্ছে না। এর পরও কেউ অপরাধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে অপরাধ কমে যাবে।

এসব বিষয়ে কথা বললে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারকা হওয়ার শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। একজনকে অনেক পরিশ্রম করে মেধা খাটিয়ে তবেই তারকা হওয়ার যোগ্যতা মেলে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কিছু অপরাধী চক্র নায়ক-নায়িকা বানানোর কথা বলে তরুণীদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। পাচারও করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় যে তরুণ বা তরুণী এই রাস্তায় যাচ্ছেন, তাঁকেও বুঝতে হবে তাঁর যোগ্যতা আছে কি না। তাঁকে কেন অফার করা হচ্ছে, সে বিষয়টাও বুঝতে হবে। একজনের হয়তো তারকা হওয়ার যোগ্যতা নেই, কিন্তু তিনি এসব কাজে নেমে যাচ্ছেন, নেমে প্রতারিত হচ্ছেন। এ কারণে সচেতনতার বিকল্প নেই।’ তিনি আরো বলেন, এসব রোধে সমাজের লোকদের, সংবাদমাধ্যম, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়বদ্ধতা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে আমাদের সাইবার অপরাধ টিম রয়েছে। একজন ডিসির নেতৃত্বে এই টিম কাজ করে। এই টিম কিশোর গ্যাং, নারীপাচারের বিষয়গুলো দেখছে। সম্প্রতি যে টিকটক ও নারীপাচারের বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে, সেটিও ডিএমপি করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশের সাইবার অপরাধ দেখার জন্য সিআইডিতে টিম রয়েছে। সেখানে ল্যাবও রয়েছে। আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিষয়গুলো দেখার জন্য ডিএমপিতে টিম তৈরি করেছি। আমাদের টিমের কাছে প্রচুর অভিযোগ আসছে। অবস্থা এমন যে এগুলো দেখার জন্য ডিএমপিতে একটি আলাদা ইউনিটই করতে হবে।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে কোনো অ্যাপ বন্ধ করার চেয়ে তার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে অবগত করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্যারেন্টাল গাইডলাইন দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের তাঁদের সন্তানদের সতর্ক করার দায়িত্ব নিতে হবে। সব কিছুরই ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। সন্তানরা বিষ নিচ্ছে না অমৃত নিচ্ছে, সে ব্যাপারে নজর রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, এসব অ্যাপের মাধ্যমে যারা নারীপাচারসহ অন্যান্য জঘন্য অপরাধে লিপ্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এসব অপরাধ রোধে ব্যবহার করা যাবে।



সাতদিনের সেরা