kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

কোরআন অবমাননার অভিযোগে হত্যা, আরো ৪ আসামির জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০২১ ১৫:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরআন অবমাননার অভিযোগে হত্যা, আরো ৪ আসামির জামিন

পবিত্র আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে লালমনিরহাটের বুড়িমারী উপজেলার শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয় ভাংচুরের মামলায় চার আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলায় পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না করা পর্যন্ত তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-ফরিদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আবুদল গনি।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। জামিন আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান মাহমুদ খান।

এর আগে হাইকোর্ট থেকে জুয়েল হত্যা মামলায় বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম জাবেদ আলী ও মো. শরিফুল ইসলামকে জামিন পান।

গতবছর ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে পবিত্র আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে সন্দেহবশত শহিদুন্নবী জুয়েল জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ফরিদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আবুদল গনি। তাদের ওইবছরের নভেম্বরের বিভিন্ন তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গতবছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। জুয়েল গতবছর ২৯ অক্টোবর সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান। ওই দিন বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। কিন্তু ওই মসজিদে পবিত্র আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্ত দল গতবছর ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি।



সাতদিনের সেরা