kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

হুইপ সামশুল ও শারুনের বিচার চাইতে ৩০০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ জুন, ২০২১ ১৮:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হুইপ সামশুল ও শারুনের বিচার চাইতে ৩০০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায়

কারো ব্যানারে লেখা ‘কাউয়া সামশু নিপাত যাক, আওয়ামী লীগ মুক্তি পাক’। কেউবা নিজের ব্যানারে লিখেছেন ‘পটিয়াবাসীর এক দাবি, সামশুল তুই কবে যাবি’। আরেকজন লিখেছেন ‘এবার মরতে নয়, সামশুল-শারুনদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছি’। তবে ব্যানারের লেখা ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবার হৃদয়ের দাবি একটাই, তারা সবাই চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে নাজমুল হক চৌধুরী শারুনের বিভিন্ন অপকর্মের বিচার চান। আর এই দাবিতেই সেই চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। তবে হুইপ সামশুল ও তার বাহিনীর ভয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তারা কেউ। 

আজ রবিবার (৬ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটি। এই সমাবেশে সামিল হতে অনেকে পটিয়া থেকে ঢাকায় ছুটে এসেছেন, যোগ দিয়েছেন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের একজন বলেন, হুইপ সামশুল হক আওয়ামী লীগের নমিনেশনে পটিয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেই তিনি এখন আওয়ামী লীগ নেতাদেরই দমন-পীড়নে মাঠে নেমেছেন। এমনকি পটিয়ার প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারাও হুইপ সামশুল ও তার ছেলে শারুনের হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন। তবে পটিয়া উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের রক্ষাকর্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন বাবা-ছেলে। এত অপরাধ করার পরও তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। তাই তাদের বিচারের দাবিতে পটিয়া থেকে ঢাকায় ছুটে এসেছি। 

এদিকে মানববন্ধনে বক্তব্যকালে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, 'আওয়ামী লীগের মধ্যে যেমন সূর্যসন্তানরা রয়েছে, তেমনি আছে আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট। তেমনই এক আবর্জনা হচ্ছে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন সামশুল হক চৌধুরী। আমরা অতীতে সামশুল হক চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছি। এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি এই সমাজে সামশুল হক চৌধুরীর মতো আবর্জনা থাকতে পারে না। এই আবর্জনাগুলোর স্থান কখনো জাতীয় সংসদ হতে পারে না। আমরা অতীতে তাকে প্রতীকীভাবে ডাস্টাবিনে নিক্ষেপ করেছিলাম। কিন্তু আগামীতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চের নেতাকর্মীরা যেখানেই তাকে পাবো সেখান থেকে ধরে সরাসরি ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করবো।'

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এদেশের কৃষক-শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। আজ সেই স্বাধীন দেশে বসে যখন সামশুল হক চৌধুরীর মতো লোকেরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটানোর হুমকি দেন, তখন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ চুপ থাকতে পারে না।

সামশুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বুলবুল আরও বলেন, আমরা জানি আপনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলতে কোনো কিছুই নেই। কিন্তু আমরা জানি না তারপরও আওয়ামী লীগ কেন আপনাকে নমিনেশন দিয়েছে? আপনি জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করছেন। 

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন বিভিন্ন সময় সিনিয়র অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে অপদস্থ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তার বিচার হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা আর বরদাস্ত করবে না, তারা দাঁতভাঙা জবাব দেবে। 
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর রাশা বলেন, আজকের এই সমাবেশ ও মানববন্ধন যে বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক। আমি হুইপ সামশুল হককে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনিতো সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনিতো পটিয়ায় থেকে ছড়ি ঘুরাতে পারতেন না। অথচ মুক্তিযোদ্ধাকেই আপনি অপমান করছেন। আমার মনে হয় আপনার সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকতে পারে। নয়তো বার বার কেন আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিপক্ষ করছেন?

তিনি আর আরও বলেন, আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধী লোক যারা আছে তাদের মধ্যে একজন হলেন হুইপ সামশুল হক। আপনাকে বারংবার আমরা দেখেছি মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করতে। আপনি বার বার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। এই স্পর্ধা আপনি কোথায় থেকে পাচ্ছেন?



সাতদিনের সেরা