kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

আবাসনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০২১ ০৩:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাসনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে করোনা ব্যাধির প্রকোপ শুরু হয়। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে আবাসন খাতে মন্দা চলছে। বিক্রির জন্য প্লট-ফ্ল্যাট প্রস্তুত থাকলেও ক্রেতা নেই। ঝিমিয়ে পড়া এ খাতকে জাগিয়ে তুলতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। যদিও গতকাল প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃদ্ধতায় চলতি বাজেটে দেওয়া বিশেষ সুবিধার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু জানাননি।

চলতি বাজেটে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় আছে, দেশের প্রচলিত আইনে যা-ই থাকুক, আগামী ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১ সালের মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত অর্থ জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি বাজেটে দেওয়া বিশেষ সুবিধা নিয়ে আবাসন খাতে অনেকে বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। আমরা মনে করছি, চলতি বাজেটে দেওয়া সুবিধার বিষয়ে যেহেতু অর্থমন্ত্রী কিছু বলেননি, সেহেতু আগামীতেও এ সুবিধা বহাল থাকবে।’

আবাসন খাতের চলমান কর আগামী অর্থবছরেও থাকবে। চলতি বাজেটে গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জের জমি এবং পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় প্রতি বর্গমিটার জমি কিনতে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। এসব এলাকার বাইরে যেকোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে। পৌরসভা বা যেকোনো জেলা সদর এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে এক হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। এসব এলাকা ছাড়া অন্য এলাকায় জমি কিনতে প্রতি বর্গমিটারে ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের বেশি নয়, এমন আয়তনের বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট হলে প্রতি বর্গমিটারে চার হাজার টাকা কর দিতে হবে। গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন ২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারে ছয় হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ এবং পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ২০০ বর্গমিটারের বেশি নয় এমন হলে প্রতি বর্গমিটারে তিন হাজার টাকা কর দিতে হবে। যেকোনো জেলা সদরের পৌরসভা অঞ্চলের বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের আকার ১২০ বর্গমিটারের বেশি না হলে প্রতি বর্গমিটারে ৩০০ টাকা কর দিতে হবে। জেলা সদরের পৌরসভা এলাকার বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট যদি ১২০ বর্গমিটারের বেশি, কিন্তু ২০০ বর্গমিটারের বেশি না হয়, তবে প্রতি বর্গমিটারে ৪৫০ টাকা কর দিতে হবে। কোনো জেলা সদরের পৌরসভা অঞ্চলের বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারে ৬০০ টাকা কর দিতে হবে।



সাতদিনের সেরা