kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

সিইসি বললেন

এনআইডি সেবা অন্য সংস্থায় গেলে জটিলতা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৩১ মে, ২০২১ ০২:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এনআইডি সেবা অন্য সংস্থায় গেলে জটিলতা হবে

কে এম নুরুল হুদা। ফাইল ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশন থেকে সরিয়ে সরকারের অন্য সংস্থার হাতে দিলে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এ জন্য তিনি সাংবিধানিক সংস্থা ইসির অধীনেই এনআইডি সেবা কার্যক্রম রাখার পক্ষপাতী।

গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এসব কথা বলেন। এর আগে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনআইডি সেবা ইসিতে রাখার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

সিইসি বলেন, ইসি ভোটার তালিকা তৈরি করে। ভোটারের বয়সটা নির্ধারণ করে। বহুদিন ধরেই এটি ইসি করে আসছে। এখন ইসি ভোটার তালিকা করবে আর এনআইডি থাকবে অন্যদের হাতে। এতে ওই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘সাব-অর্ডিনেশন’ বা ‘সুপরিয়রিটি’ এসে যায়। যেটা সংবিধান গ্রহণ করে না। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন (অন্য মন্ত্রণালয় থেকে) আলাদা থাকবে। অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ রকম দাপ্তরিক যোগাযোগ থাকবে না।

সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘এনআইডি সেবা ইসির কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে ইসির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সম্প্রতি এসংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। সরকারের এই বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কমিশন বা কমিশন সচিবালয়ের সচিবের সঙ্গে আগে কখনো আলোচনা করা হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের থেকে কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘চিঠি দিলেই এটি হয়ে যাবে তা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে অবকাঠামো, জনবলসহ অনেক কিছুই জড়িত রয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। ইসির কী কী যুক্তি আছে, সেগুলো তাতে তুলে ধরা হবে। প্রতিবেদনটি ইসিসচিব মন্ত্রিপরিষদসচিবকে দেবেন।’

সিইসি বলেন, ‘এনআইডি কার্যক্রম স্থানান্তরের বিষয়টি এখন পর্যন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে, আলোচনার পর্যায়ে আছে। চিঠি দিলেই সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় না। এটি জটিল কাজ।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা মনে করি এনআইডি কার্যক্রম ইসির কাছেই থাকা উচিত। কারণ ইসি এটি তৈরি করেছে ভোটার তালিকা তৈরির ভিত্তিতে। সরকারের যে উৎকণ্ঠা বা পরামর্শ সেটা হলো—কোনো দেশে নির্বাচন কমিশন এনআইডি কার্ড করে না। এটা ঠিকই যে কোনো দেশে এটা নির্বাচন কমিশন করে না। তবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনা করলে হবে না। ইসির কাছে এটি থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। ইসি সেবা দিতে পারছে। তার পরও সরকারের কী চিন্তা-ভাবনা আছে তা ইসিসচিব মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে বা অন্যান্য পর্যায়ে আলোচনা করে বোঝার এবং তাদের সমস্যা ও সুবিধাগুলো বোঝানোর চেষ্টা করবেন।’

এনআইডি এক দপ্তরে থাকলে আর ভোটার তালিকা ইসির হাতে থাকলে কোনো জটিলতা হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ‘অসুবিধা হবে।’

ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র আলাদা হলে তা সাংঘর্ষিক হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ভোটার তালিকা তৈরি করি আমরা। আর এনআইডি থাকবে অন্য বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের হাতে। এতে নির্বাচন কমিশন সরকারের অন্য কোনো দপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে চলে যায়। এটা সংবিধান গ্রহণ করে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আলাদা থাকবে, অন্য কোনো দপ্তরের অধীনে তারা থাকবে না।’

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুজ্জামান তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এনআইডি ভোটার তালিকার একটি বাই-প্রডাক্ট। এই কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকার মধ্যে জটিলতা তৈরি হবে। যুক্তিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছালে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক চিঠিতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করে এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগে স্থানান্তরের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।



সাতদিনের সেরা