kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে ওয়েবিনারে বক্তারা

তামাক ত্যাগে উৎসাহিত করতে তামাক-কর ব্যবস্থা পরিবর্তন দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মে, ২০২১ ১৯:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তামাক ত্যাগে উৎসাহিত করতে তামাক-কর ব্যবস্থা পরিবর্তন দরকার

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর ব্যবস্থাপনা তামাক ছাড়ার প্রবণতাকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে। ‘তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বাড়িয়ে এর প্রাপ্তি সংকুচিত করা’ তামাক নিয়স্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত। কিন্তু করারোপের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে তা কার্যকর হচ্ছে না। তাই তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা ও তামাক ব্যবহার ত্যাগে উৎসাহিত করতে তামাক-কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) সম্মিলিতভাবে এই ওয়েবিনার আয়োজন করে। ‘তামাক ব্যবহার ত্যাগে মূল্য ও করের প্রভাব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধাপক ও বিএনটিটিপি’র কনভেনর ড. রুমানা হক। বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, বাটা’র সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সংসদ সদস্য মো. হাবিবে মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণামত ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার জন্য কাজ করছি। সংসদে আমাদের সহযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ছে। দেশের মানুষের স্বার্থেই দেশকে তামাকমুক্ত করতে হবে। সম্মিলিত চেষ্টায় নিশ্চয়ই আমরা তা অর্জন করবো।

এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ পেতে আগামী দিনগুলোতে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন অর্থবছর থেকেই এটা করতে হবে। এবং কর কাঠামোর বাইরে থাকা তামাকজাদ দ্রব্যসমূহকে কর জালের আওতায় আনতে হবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, দেশকে তামাকমুক্ত করতে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ কর বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের মধ্যে একটি ধাক্কা দিতে হবে। যাতে স্বল্প মূল্যে তারা ক্রয় করতে না পারে। এতে তরুণরাও ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত হবে।

মূল প্রবন্ধে রুমানা হক বলেন, দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপে অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতি অনুসরন করা হয়। পদ্ধতিটি জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। তাই এটি তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা বা রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাংখিত অবদান রাখতে পারছে না। বরং তামাক কোম্পানী লাভবান হচ্ছে এবং তামাক কোম্পানির কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করারোপ করা হলে একই সাথে তামাকের ব্যবহার কমবে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



সাতদিনের সেরা