kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১৮ যুদ্ধজাহাজ

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ মে, ২০২১ ১১:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১৮ যুদ্ধজাহাজ

ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' পরবর্তী জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় কাজ করবে নৌবাহিনীর ১৮টি যুদ্ধজাহাজ। এরই মধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এসব যুদ্ধজাহাজ।

আজ বুধবার (২৬ মে) নৌবাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ত্রাণ ও দুযোগ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানায়, করোনা সংক্রমণের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিন গুণ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শতভাগ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সবার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, বুদ্ধপূণির্মা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি থাকলেও উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশের ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি, সিপিপি অধিশাখা ও সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো খোলা থাকবে।

ইয়াসের প্রভাবে পদ্মা উত্তাল হয়ে ওঠার কারণে  আজ বুধবার (২৬ মে) ভোর থেকে নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই কারণে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলো থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নৌযান চলাচল।

সূত্র জানায়, গতরাত ২টা পর্যন্ত সব ফেরি চললেও ২টার পরে ডাম্প ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার ভোর রাতের দিকে কেটাইপ ও মিডিয়াম ফেরি এবং ভোর ৬টার দিকে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস উপকূলের কাছাকাছি চলে আসায় উত্তাল সাগর। মাত্র একদিনের ব্যবধানে উপকূলের দিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। ইতোমধ্যে আঘাত হানতে শুরু করেছে ভারতের ওডিশা উপকূলে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও তাণ্ডব চালাতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়।

এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দেখা দিয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে। মোংলা, বাগেররহাট, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরাসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি আর প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া। সেইসঙ্গে সাগর উত্তাল থাকায় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্র তীরে।

জোয়ারের পানি ঢুকছে নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চলে। এরই মধ্যে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। সেই সঙ্গে এর প্রভাবে ভরা পূর্ণিমার কারণে দেশের উপকূলে উঁচু জোয়ারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ইতোমধ্যেই উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বেড়েছে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া। প্লাবিত হচ্ছে সাগর ঘেষা গ্রামগুলো।

এদিকে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার সব প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ অবস্থানে সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিরাও নিজ নিজ জায়গা থেকে সক্রিয় রয়েছেন।



সাতদিনের সেরা