kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

আদালতে স্বীকারোক্তি

আউয়ালের কথায় সুমন সরিয়েছেন পথের কাঁটা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০২১ ০৩:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আউয়ালের কথায় সুমন সরিয়েছেন পথের কাঁটা

সাবেক এমপি এম এ আউয়াল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর উত্তর কালশীর বুড়িরটেক ও আশপাশের বাউনিয়া মৌজা এলাকায় আবাসন প্রকল্পে দখলদারি বজায় রাখতে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালসহ কয়েকটি পক্ষ নিয়মিত সুমন বেপারীকে টাকা দিত। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন এলাকায় ত্রাস করতে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তোলেন। মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে আউয়ালের প্রকল্পের বিপক্ষে দাঁড়ালেই তাঁর টার্গেটে পড়েন সাহিনুদ্দিন। সুমনকে দিয়ে তাঁর ওপর দুই দফা হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে আউয়ালের সঙ্গে সমঝোতা করলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাজ করেননি সাহিনুদ্দিন। উল্টো সুমনের কাজে বাধা তৈরি করেন তিনি। এ অবস্থায় আউয়ালের নির্দেশে নিজের পথের কাঁটা সরাতে সাহিনুদ্দিনকে সরিয়ে দেন সুমন।

পল্লবীর ১২ নম্বর ডি ব্লকে ৩১ নম্বর রোডে ঈদের দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়ার পর তিনি কয়েকজনকে দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেন। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য দিয়েছেন সাহিনুদ্দিন খুনের অন্যতম আসামি সুমন। গতকাল সোমবার তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই খুনের মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাবেক এমপি আউয়ালসহ ছয়জন এখনো ডিবির রিমান্ডে রয়েছেন।

গত ১৬ মে পল্লবীর ডি ব্লকের ৩১ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে একটি গ্যারেজে ছয় বছরের ছেলের সামনে সাহিনুদ্দিনকে হত্যার নির্মমতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার কালশীতে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মানিক, শনিবার রাতে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় মনির নামে আরেক যুবক নিহত হন। তাঁরা দুজনই সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সাহিনুদ্দিনকে ১০-১২ জন কুপিয়ে হত্যা করেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ছাড়াও আরো কিছু ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ। জানতে চাইলে ডিবির উপকমিশনার (মিরপুর) মানস কুমার পোদ্দার বলেন, ‘আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ থেকে তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত তদন্ত শেষ হবে।’

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত আসামি সুমন, রকি তালুকদার ও মুরাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সুমন ও রকির পাঁচ দিন এবং মুরাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষের আগেই শনিবার রকি ও মুরাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিমান্ড চলাকালেই গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমনকে আদালতে হাজির করলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত সুমনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ডিবির সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আউয়ালের নির্দেশে প্রতিপক্ষ সাহিনুদ্দিনকে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি আউয়াল, সহযোগী হাসান ও বাবুকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শুক্রবার ডিবির হাতে গ্রেপ্তার শরীফ, টিটো ও ইকবাল নামে তিন আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আরেক আসামি রিমান্ড শেষে জেলহাজতে আছেন।

হত্যার পরদিন সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম পল্লবী থানায় সাবেক এমপি আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে আকলিমার অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকে আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এম এ আউয়াল ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় তাঁর ছেলেকে খুন করিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা