kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ছাত্রলীগের প্রশ্ন

শরীরে ডাকসুর টি শার্ট, তারপরেও ঢাবি ছাত্রের লাশ 'অজ্ঞাত পরিচয়ে' মর্গে

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ মে, ২০২১ ১৬:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শরীরে ডাকসুর টি শার্ট, তারপরেও ঢাবি ছাত্রের লাশ 'অজ্ঞাত পরিচয়ে' মর্গে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থীদের শরীরে ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) এর লোগো সম্বলিত টি শার্ট ছিল। শরীরে এমন টি শার্ট থাকলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অন্তত এই ক্লু ধরে এগোনো যেতেই পারতো। কিন্তু তারপরেও মর্গে লাশ পড়ে ছিল ৮ দিন। এটা মেনে নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 আট দিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হাফিজুরের লাশ শনাক্ত করে পরিবার। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দায়ের কোপে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন তিনি। 

এদিকে,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের কীভাবে মৃত্যু, তা চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগ রাজপথে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন৷ 

সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সাত-আট দিন ধরে হাফিজুর রহমানের লাশটি অজ্ঞাতনামা হিসেবে রাখা ছিল।  এই সাত-আট দিনের ঘটনাক্রম আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের সামনে নিয়ে আসে।  হাফিজুরের গায়ে ডাকসুর লোগো লাগানো টি-শার্ট ছিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় তার নিখোঁজের জিডি করা হয়েছে, শাহবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে, অথচ ঘটনার কোনো ফয়সালা করা যায়নি। 
তিনি বলেন,  শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে জিডি করতে গেলে পুলিশ এটি মিলিয়ে দেখার মতো পেশাদারত্ব দেখাতে পারেনি যে কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পাওয়া লাশটি নিখোঁজ হাফিজুর রহমানের হতে পারে। একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে তাদের সামনে আসা উচিত ছিল।  আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, এই ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। 

সাদ্দাম বলেন, আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি৷ যাদের সঙ্গে সেদিন হাফিজুর আড্ডা দিয়েছিল, অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। 

সমাবেশে বক্তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে-

১. হাফিজুরের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের এবং মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

২. ঘটনার আগমুহূর্তে হাফিজুরের সঙ্গে যে বন্ধুরা ছিল, তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে।

৩. হাফিজুরের লাশ নিয়ে পুলিশ সদস্য ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে দায়িত্বে অবহেলার জবাব দিতে হবে।

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কী পদক্ষেপ নেবে সেই নকশা প্রকাশ করতে হবে।

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক মিফতাহুল ইসলাম পান্থ।  বক্তব্য রাখেন মাইম একশনের সভাপতি লিজাইনুল ইসলাম রিপন, ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কোহিনূর আক্তার রাখি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার লাবণ্য, ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সভাপতি তানজীম আল আলামিন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ নোমান, সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাড সোসাইটির সভাপতি তানজির আল ফারাবীসহ অনেকে।  


থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে হাফিজ দৌড়াদৌড়ি করছিল আর বলছিল 'আমাকে মাফ করে দাও'। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের এক ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতার ধারালো দা দিয়ে নিজের গলা নিজেই কেটে ফেলেন। পরে গলাকাটা অবস্থায় দৌড় দিয়ে মেডিক্যালের বহির্বিভাগের গেটের সামনে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তিনি মারা যান। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাকে ৯ দিন ধরে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। রবিবার হাফিজের পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ থানায় গেলে ওসির মোবাইলে সংরক্ষিত ছবি পরিবারকে দেখালে তারা লাশ শনাক্ত করেন।

হাফিজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। হাফিজুরের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায়।

বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ মে ঈদুল ফিতরের পরদিন দুপরে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে হাফিজুর। বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল এলাকায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে রাত ৮-৯টার দিকে তার নিজ বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে যাওয়ার জন্য বিদায় নেয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এঘটনায় তার মা সামছুন নাহার গত শুক্রবার কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গত ৯ দিন ধরে তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব খোঁজাখুঁজি করছিল।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১৫ মে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ধারালো দা দিয়ে হাফিজ নিজের গলা কেটেছেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাকে ৮ দিন ধরে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। এখন পরিবার যেভাবে চায়, আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



সাতদিনের সেরা