kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ওজনে ঠকাতে অভিনব কারচুপি

রোকন মাহমুদ    

২০ মে, ২০২১ ০৩:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওজনে ঠকাতে অভিনব কারচুপি

কাঠের দণ্ডের দাঁড়িপাল্লা নিষিদ্ধ, তবু কারওয়ান বাজারে ব্যবহার চলছে

রাজধানীর কমলাপুর বাজার এলাকায় ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে এক কেজি পটোল কেনেন আব্দুল হালিম নামের এক ক্রেতা। দোকানি দাঁড়িপাল্লায় এক কেজির বাটখারা দিয়ে ওজন করে দেন। কিন্তু পাশের এক মসলার দোকানে নিয়ে ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে মেপে দেখেন ২৫ গ্রাম কম। এ নিয়ে শুরু হয় দোকানি হোসেন মিয়ার সঙ্গে ক্রেতার বাগবিতণ্ডা। গতকাল বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় দোকানি ভুল স্বীকার করলেও তা ইচ্ছা করে হয়নি বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, পাল্লা ও বাটখারাসহ পুরো দোকানই তিনি এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনেছিলেন।

শুধু এই ভ্রাম্যমাণ দোকানই নয়, রাজধানীর ছোট-বড় অনেক বাজারেই এখনো পাল্লা ও বাটখারায় পণ্য ওজন করে বিক্রি করতে দেখা যায়। ওজনে কারচুপি হওয়ায় ঠকছে ভোক্তা। এ ছাড়া ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রে কারচুপি করেও পরিমাণে কম দিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনসহ (বিএসটিআই) বিভিন্ন সংস্থার বাজার অভিযানেও এমন কারচুপি ও ওজনে ঠকানোর ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ ২০ মে বিশ্ব পরিমাপ (মেট্রোলজি) দিবস পালিত হচ্ছে। সঠিক ওজন ও পরিমাপের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মেজারমেন্ট ফর হেলথ’, অর্থাৎ ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমাপ’।

বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ওজনে কম দিতে কেজির বাটখারায় কারচুপি করেন। অনেকে ডিজিটাল মেশিন টেম্পারিং করে ওজনে কারচুপি করেন। বিশেষ করে পেট্রল পাম্পগুলোতে এই কাজটি বেশি হয়। এ বিষয়ে মাঝেমধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর পরও অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাকে ঠকিয়ে চলেছেন। এ জন্য ক্রেতার সচেতনতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার উন্নতি প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, বাজার অভিযান চালিয়ে যেসব অপরাধ পাওয়া যায়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ওজনে বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপি। এ ছাড়া পরিমাপে ও পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতেও কারচুপি ধরা পড়ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৬ থেকে ৪৯ ধারায় তাদের জরিমানাও করা হয়। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫২৩। এ সময় এ ধরনের অপরাধের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পৌনে সাত কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। গত আগস্ট মাসের হিসাবে দেখা যায়, এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল চার হাজার ৯৬৯। অর্থাৎ আট মাসে ওজনে কারচুপির অপরাধ পাওয়া গেছে ৫০০টির ওপরে।

বাংলাদেশ ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনের ২৯ ধারা অনুসারে ওজনে কম দেওয়া শাস্তিযোগ্য অরপাধ। আর ৪৬ ধারা অনুসারে এর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। হতে পারে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও।

বিএসটিআইয়ের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বিভিন্ন এলাকার পেট্রল পাম্পে মোট ৩৬৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পের পরিমাপযন্ত্র টেম্পারিং করে কম দেওয়ার অপরাধে ৬৬৩টি পাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেসব মামলা নিষ্পত্তি করে ৮২ হাজার ৪০৮ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়। এ ছাড়া দুজনকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগের বছর ২৪৮টি অভিযান চালিয়ে ৫২০টি পাম্পের বিরুদ্ধে মাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

আইন অনুসারে প্রতিবছর ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রগুলো বিএসটিআই থেকে পরীক্ষা করিয়ে সনদ নিতে হয়। কিন্তু ছোট-বড় বাজারের বেশির ভাগ ছোট দোকানেরই এই সনদ নেই। সনদ নেই বড় বা পাইকারি অনেক দোকানেরও।

সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ছয়টি দোকানকে এই অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বিএসটিআই। এর আগে জানুয়ারি মাসে কারওয়ান বাজারের চারটি দোকানকে জরিমানা করা হয় ৬৫ হাজার টাকা।

আজ বিশ্ব পরিমাপ দিবস : দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।



সাতদিনের সেরা