kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

বিচার প্রশাসন ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০২১ ১৯:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচার প্রশাসন ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়া দেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের বিষয়ে বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের স্বাক্ষরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রথম নারী মহাপরিচালক হিসেবেও নিয়োগ পেলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি বর্তমান মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল ২০ মে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘১৯৯৫ সালের বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আইনের ১১(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করলেন। উক্ত পদে কর্মরত থাকাকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের প্রাপ্য বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।’

নারী বিচারক হিসেবে তিনিই প্রথম, সুপ্রিম কোর্টেও প্রথম নারী বিচারপতি

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা চৌধুরী আবুল কাশেম মইনুদ্দিন। মা বেগম রাশিদা সুলতানা দ্বীন। তিনি ময়মনসিংহ সদরের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে মেট্রিকুলেশন, ১৯৬৯ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করার পর ময়মনসিংহ ল’ কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় পা রাখেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ হিসেবে (সহকারি জজ) নিয়োগ পান। তিনিই দেশের প্রথম নারী বিচারক। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনিই প্রথম নারী জেলা জজ ছিলেন। এরপর কর্মদক্ষতার কারণেই নিম্ন আদালত থেকে ধীরে ধীরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পা রেখেছেন। ২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর ২০০২ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০১৭ সালের ৭ জুলাই তিনি অবসরে যান। নারী বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডব্লিউজেএ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সংস্থায় দুইবার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হতে পারতেন দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি

তিনি হতে পারতেন দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি। ২০১৫ সালে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সময় বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নামও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু আপিল বিভাগে তার চেয়ে জেষ্ঠ্য বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এ কারণেই তার (বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা) দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হওয়া হয়নি। কাকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হবে তা পুরোপুরি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতিকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার যেমন প্রথা রয়েছে, তেমনি আপিল বিভাগের অপেক্ষাকৃত জুনিয়র বিচারপতিকেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারক ছিলেন। এর বাইরে ১৭ বছরে উচ্চ আদালতে অসংখ্য মামলায় রায় দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা