kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ২০:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা ঘোষণা

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সংকট মোকাবেলায় ২০২১ সালের যৌথ কার্যক্রম পরিকল্পনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শরণার্থী, বাংলাদেশের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠী এবং বার্মায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুনভাবে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এই সহায়তা বার্মার রাখাইন রাজ্যে থেকে ভয়াবহ সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুসহ ৯ লাখ শরণার্থীর চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট মুখপাত্রের কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় প্রধান দাতাদেশ হিসেবে নৃশংসতার শিকার ও সংকটাপন্ন অন্যান্য নাজুক মানুষদের জন্য সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই অর্থ সহায়তা নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে বার্মার সামরিক বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত সহিংসতার পর থেকে বাংলাদেশ, বার্মা ও এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে সংকটাপন্ন মানুষদের জন্য আমাদের সর্বমোট মানবিক সহায়তার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াল ১.৩ বিলিয়ন ডলারে যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত কার্যক্রমে দেওয়া ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই সংকটে ব্যাপক অর্থায়ন চাহিদা থাকার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু সদস্যদেশ কর্তৃক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দেয়া অর্থ সহায়তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো প্রচেষ্টা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি এবং সেইসাথে অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য অন্যান্য দেশ ও অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আরো বলা হয়, এই কার্যক্রমের কারণে আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ওপর, বিশেষত বাংলাদেশের ওপর যে ব্যয়ভার ও দায়-দায়িত্ব এসে পড়েছে সেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে। এ অঞ্চলের যেসব দেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তাদের জন্য আমরা আমাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবো। গত ১ ফেব্রুয়ারি বার্মার সামরিক অভ্যুত্থান ও বর্বরোচিত সামরিক অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আমরা আমাদের অঙ্গীকার বজায় রাখবো। আমরা জানি এই অভ্যুত্থানের বহু হোতা আর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোসহ পূর্বেকার অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ীরা আসলে একই ব্যক্তি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগে সহায়তা দিতে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে কাজ অব্যাহত রাখব।

আরো বলা হয়েছে, আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত গঠন এবং তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ক আলোচনায় তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেওয়া অব্যাহত রাখবো। তাছাড়া, বার্মার অভ্যন্তরে সংকটাপন্ন মানুষদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব অব্যাহত রাখব। শরণার্থীদের সুরক্ষায় বিশেষত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এসময়ে তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেবার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয় যাতে তারা অন্যকোনো দেশে গিয়ে নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হয়। শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রোহিঙ্গাসহ বার্মার সকল মানুষের মর্যাদা ত্বরান্বিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।



সাতদিনের সেরা