kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

রোজিনার মুক্তি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সচিবের পদত্যাগ চাইলেন মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ১৪:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোজিনার মুক্তি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সচিবের পদত্যাগ চাইলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে নির্যাতনের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরপূর্বক তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

একইসঙ্গে অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (১৮ মে) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। 

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে এখন আর স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং তথ্য পাওয়ার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। রোজিনা ইসলাম একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তাঁর অনেক অনুসন্ধানী ও সাহসী প্রতিবেদনে সরকারের বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক দুর্নীতি, অনিয়মের খবর জনগণ জানতে পেরেছে। সেজন্য সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং নজরদারি করছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল পেশাগত কারণে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাঁকে একা পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়ভাবে তাঁকে দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এর পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। একজন নারী সাংবাদিকদের ওপর সরকারি  কর্মকর্তাদের এধরনের আচরণ লজ্জাজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

বলা হয়, এটি কোনো তুচ্ছ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কর্তৃত্ববাদী শাসনে সাংবাদিক দলন এবং ভিন্নমত, সত্য প্রকাশ ও সরকারের সীমহীন দুর্নীতি প্রচারে সরকারের প্রতিবন্ধকতার এটি একটি উদাহরণ মাত্র। সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যাতে আর সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সংবাদ প্রকাশ করতে না পারে-এ ঘটনার মাধ্যমে তাঁদেরকে সেই ভয় দেখানো হলো। সরকার ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে আড়াল করতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকের ওপর নিষ্ঠুর আচরণের দায় সরকার এড়াতে পারে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব এ ঘটনা জানলেও তাঁরা রোজিনা ইসলামকে উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেননি; উল্টো তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের নির্দেশেই রোজিনা ইসলামের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি।'

বিবৃতিতে রোজিনা ইসলামের মুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার, তাঁকে আটক রাখাসহ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ এবং সাংবাদিক দলন-নিপীড়ন বন্ধ করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সঠিক তথ্য পাবার অধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।



সাতদিনের সেরা