kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

খালেদার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে ধীরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০২১ ০৩:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে ধীরে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। এখনো তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার কোনো দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এদিকে গত শুক্রবার ঈদুল ফিতরের দিন পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতিমা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তাঁরা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এ সময় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।

ঈদের দিন গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডাম অতি ধীরে ধীরে হলেও ইমপ্রুভ করছেন। তবে চিকিৎসকরা কালও (বৃহস্পতিবার) আমাকে বলেছেন যে তাঁর অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল। তবে অনেক বিষয়েই তাঁর উন্নতি হয়েছে এবং চিকিৎসকরা খুব আশাবাদী যে তিনি অতি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি মহাসচিব একা এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে তিনি বেরিয়ে আসেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়া করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসকরা হাসপাতালে কাউকে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফলে সারা দিন আর কোনো নিকট স্বজন সেখানে যাননি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম প্রতিদিন পর্যালোচনা করছে মেডিক্যাল বোর্ড। গতকাল বিকেলেও বোর্ড বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সিসিইউতে ম্যাডামের পোস্ট-কভিড জটিলতার সার্বিক চিকিৎসা চলছে। এটি একটি লংটার্ম চিকিৎসা। চিকিৎসক হিসেবে ধারণা করে এখনই কিছু বলা যাবে না। হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড ম্যাডামের সর্বোত্তম চিকিৎসার কাজটি করে যাচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কোন পর্যায়—জানতে চাইলে মেডিক্যাল বোর্ডের এই সদস্য বলেন, ‘পোস্ট-কভিড নানা রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এর বেশি নতুন কোনো তথ্য নেই।’

এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থার আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তবে ঠিক কবে তাঁকে রিলিজ দেওয়া যাবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। বোর্ডই সিদ্ধান্ত দেবে যে কখন রিলিজ করা যাবে।’

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিনে দুটি ঈদ কাটে তাঁর। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ওই সময়গুলোতে ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। গত বছর তাঁর দুটি ঈদই কেটেছে গুলশানের বাসায়। ওই দুই ঈদে পরিবারের বাইরে শুধু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।



সাতদিনের সেরা