kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

সিসিএনএফ-এর অভিমত

‘রোহিঙ্গাসংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মতামত জেআরপিতে প্রতিফলিত হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০২১ ১৭:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘রোহিঙ্গাসংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মতামত জেআরপিতে প্রতিফলিত হয়নি’

ফাইল ফটো

জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ২০২১ সালের রোহিঙ্গাসাড়া দান পরিকল্পনাকে (জেআরপি) সংকট মোকাবেলায় যথোপযুক্ত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছে কক্সবাজারে কর্মরত ৫০টি স্থানীয় ও জাতীয় এনজিও এবং সুশীলসমাজ সংগঠনের নেটওয়ার্ক সিসিএনএফ। সিসিএনএফ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, রোহিঙ্গাসংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মতামত উক্ত দলিলটিতে প্রতিফলিত হয়নি।

আজ রবিবার ‘জাতিসংঘের রোহিঙ্গা সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) ২০২১ : শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় যথোপযুক্ত নয়’ শীর্ষক ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ’র কো-চেয়ার ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন পালসর নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী, ইপসার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর, মুক্তি-কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল দে সরকার ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির।

সূচনা বক্তব্যে রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ইন্টার সেকটোরাল কো-অর্ডিনেশন গ্র“প (আইএসসিজি) গত ৪ বছরে রোহিঙ্গা কর্মসূচির জন্য প্রাপ্ত তহবিলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কত অংশ ও স্থানীয় উৎস্য থেকে কেনাকাটায় কত টাকা ব্যয় এবং স্থানীয়দের মধ্য হতে কতজনকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেসব তথ্যও প্রকাশ করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, জেআরপিতে ভবিষ্যত পরিস্থিতির বিশ্লেষণ নেই। আগামী ৫ বা ১০ বছরে কোনও প্রত্যাবাসন না হলে এই সংকট মোকাবেলায় কী করা হবে, সেটা এখনই ভাবা প্রয়োজন।

আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় পৃথক তিনটি লাইন বা কর্তৃপক্ষ আছে। যেমন- আইএসসিজি, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসিসি) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। কর্মসূচি ও তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি একক কর্তৃপক্ষ ও একক তহবিল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, স্থানীয় এনজিও এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি কমিটি হওয়া উচিত। রোহিঙ্গা সংকট সংক্রান্ত পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটিতেও সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমল দে সরকার বলেন, রোহিঙ্গা অর্থায়নের স্থানীয়করণ নিশ্চিত করতে 'লোকালাইজেশন রোডম্যাপ’ প্রস্তুত করেছে। যেখানে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় এনজিওদের কাছে থাকতে হবে। জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো ও আইএনজিওগুলোকে শুধু মনিটরিং এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যে তাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

রোহিঙ্গাদের অর্থ সহায়তায় স্বচ্ছতা দাবি করেন আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২১ সালের পর যেন বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন না হয়, সে লক্ষ্যে দক্ষতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

পরিবেশের ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেন মো. মজিবুল হক মনির। তিনি আরো বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে ভূগর্ভস্থ পানির নিচে নেমে যাচ্ছে। সুতরাং প্লাস্টিক ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত। এ জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন নিষিদ্ধ করতে হবে। নদীর পানি পরিশোধন করে তা সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।



সাতদিনের সেরা