kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

গাছ কাটা বন্ধ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রক্ষার দাবি নাগরিক সমাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মে, ২০২১ ১৬:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাছ কাটা বন্ধ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রক্ষার দাবি নাগরিক সমাজের

গাছ কাটা বন্ধ করে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী উদ্যানের মধ্যে কংক্রিট ও অন্যান্য স্থাপনা ৫ শতাংশের বেশি না রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার ভূমি-বন-বনবাসী রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় এই দাবি জানান তারা।

নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তৃতা করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরীন, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব, গাছ কাটার বিরুদ্ধে রিটকারী আইনজীবি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জনউদ্যোগের সদস্য সচিব তারিক মিঠুল, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুর রসুল, জনউদ্যোগের লুনা নুর, গ্রীণ ভয়েসের আলমগীর কবীর, আদিবাসী ফোরামের হরেন্দ্রনাথ সিং প্রমুখ।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, সরকারে যে থাকুক তাকে অন্ধভাবে দেশ চালাতে দেওয়া যাবে না। লোভের কারণে ইতিহাস মুছে যাবে তা হতে দেওয়া যাবে না। এই জায়গা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ধ্বংস হলে বঙ্গবন্ধু, জাহানারা ইমামসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধ্বংস হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য সোচ্চার নাগরিক আন্দোলন জারি রাখার প্রকৃতি ও পরিবেশ বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনার সূত্রপাত করে ড. জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমরা যেসময় এই গাছ কাটার মহোৎসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি, সেসময় পুরো পৃথিবী জুড়ে অক্সিজেনের বদ্ধ অভাব। অক্সিজেনের জন্য আমরা লড়াই করছি। অথচ সুন্দরবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ওসমানী উদ্যান, মধুপুরের শালবন ও পাহাড়ে বন ধ্বংস করে হোটেল নির্মাণের মাধ্যমে অক্সিজেন সংকট তৈরি করছি।

নারী নেত্রী খুশী কবির বলেন, গাছ কাটার মূল উদ্দেশ্যটি হচ্ছে বাণিজ্যিক ও টাকা বানানো। নানাভাবে পেচিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে এই প্রকল্পগুলো করা হয়, যার পেছনে কিছু মানুষের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তাই  ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটি রক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মকে সোচ্চার হতে হবে।

‘বিভাগীয় শহর, জেলা শহরের পৌর এলাকা ও দেশের সকল স্থানের উন্মুক্ত এলাকা, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন’ এর উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, উদ্যানের কোনো ক্যারেক্টার পরিবর্তন করা যাবে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু ডিকলার্ড উদ্যান। তাই আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে, যে কোনো রূপ বৃক্ষরাজির নিধনকেও শ্রেণী পরিবর্তন হিসাবে গণ্য করা হবে। গাছ যদি কাটা হয় তাহলে উদ্যান ধ্বংস হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও আইনে বলা আছে।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, গাছ কেটে সাফ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘উন্নয়ন’ দাঁড় করানো হচ্ছে। এ বিষয়টির পেছনে তিনটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের পেছনে কার হাত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। উদ্যান, গাছ ও অন্যান্য পরিবেশ বিষয়ক বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের মত একটা কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই কাজগুলোর পেছনে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা, রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতা এবং কর্পোরেটদের স্বার্থ জড়িত। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক হতে হবে। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণকে সঠিক উন্নয়ন দর্শন নয় বলেও মনে করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা