kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

সংবাদ সম্মেলনে তামাক বিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিবৃন্দ

তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ১৭:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে আগামী বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের আহ্বান জানিয়েছেন তামাক বিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

তারা বলেছেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ ও করারোপে তামাক কম্পানির লাভ অনাকাঙ্খিতভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই আগামী অর্থ-বছর থেকে তামাকজাত দ্রব্যের বিদ্যমান অ্যাড ভেলোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে, সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তারা এই আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এস এম আবদুল্লাহ। বাটা’র সমস্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপি’র কনভেনর ড. রুমানা হক, পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নিখিল ভদ্র, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক সাগুফতা সুলতানা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে এস এম আবদুল্লাহ বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপে প্রচলিত অ্যাড ভেলোরেম পদ্ধতিটি জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। তাই এই পদ্ধতিতে দাম বাড়লেও তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কাঙ্খিত হারে কমছে না, আবার রাজস্ব আয়ও বাড়ছে না। বরং তামাক কম্পানির মুনাফা অনাকাঙ্খিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭৬ ভাগ দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কোনো না কোনোভাবে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির করারোপ ব্যবস্থা রয়েছে। আর বিশ্বের ১১৫টি দেশে ইউনিফর্মড কর ব্যবস্থা চালু আছে। অর্থাৎ এসব দেশে সব সিগারেট এক দামে কিনতে হয়, কোনো মূল্য স্তর নেই। কিন্তু বাংলাদেশে স্তরভিত্তিক অ্যাড ভেলোরেম পদ্ধতিতে তামাকজাত দ্র্রব্যের ওপর করারোপ করা হয়। থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকার সফলতার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে সুনির্দিষ্ট করারোপের সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন তিনি।

ড. রুমানা হক বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট করারোপ’ পদ্ধতিতে দ্রব্যের মূল্যের ওপর শতাংশ হারে করারোপের পরিবর্তে দ্রব্যের পরিমাণের ওপর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কর নির্ধারণ করা হয়। তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে সব ধরণের তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে এবং তামাক কম্পানির কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমবে।

ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধি হলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা পাবে। ২০২১-২২ অর্থ-বছরের জন্য তামাকজাত দ্রব্যের কর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১১ লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দেবে এবং ৮ লক্ষ তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে কর প্রস্তাব তুলে ধরে বলা হয়, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য নি¤œস্তরে ৫০ টাকা, মধ্যম স্তরে ৭০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১১০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে যথাক্রমে ৩২.৫০ টাকা, ৪৫.৫০ টাকা, ৭১.৫০ টাকা, এবং ৯১ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। আর সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ পূর্বের ন্যায় বহাল রাখতে হবে। এছাড়া ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা