kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

হাসি ফুটলো বসুন্ধরার ঈদ উপহারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ২১:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসি ফুটলো বসুন্ধরার ঈদ উপহারে

এক পা অবশ দবির মিয়া চলাফেরা করেন ক্র্যাচে ভর দিয়ে। ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারেন না। থাকেন রাজধানীর কামার পাড়ায় বস্তিতে। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-তে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার ঈদ উপহার সামগ্রী পেয়ে হাসি ফুটলো দবির মিয়ার মুখে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মতো পঙ্গু মানুষরে বড় উপকার করলো বসুন্ধরা। ঈদের এই কয়েকদিন আর চিন্তা থাকবো না। আল্লাহ বসুন্ধরারে আরো ভালো করুক।’

সুফিয়া বেগমের চোখে মুখেও ছিল খুশির ঝিলিক। তিনিও থাকেন কামার পাড়ার বস্তিতে। মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালালেও করোনা আসায় অনেকেই বাসায় ঢুকতে দেন না। ফলে অনেক কষ্ট করেই চলছে তার সংসার। সুফিয়া বেগম বলেন, ‘বস্তায় চাল-ডালের সঙ্গে সেমাইও আছে। ঈদের দিন যে সেমাই রানতে পারবো তা চিন্তায়ও ছিল না। বসুন্ধরা আমাগের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিছে, আল্লাহ যেন বসুন্ধরারেও সুখে-শান্তিতে রাখে, তাদের আরো দান করার তওফিক দেয়।’

শুধু দবির মিয়া বা সুফিয়া বেগমই নয় রাজধানীর উত্তরা ও কামার পাড়ার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিধবা, ভিক্ষুক, রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী, হকারসহ বহু অসহায় মানুষ আজ বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রী পেয়েছেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, ছোলা ও লবণ।

বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই উপহার সামগ্রী কালের কণ্ঠ শুভসংঘ, আইইউবিএটি শাখা-এর উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই সহায়তা পেয়ে তাঁরা সবাই যেমন খুশি, তেমনি বসুন্ধরা ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সবাইকে প্রাণভরে দোয়া করেছেন।

উত্তরার আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে শুভসংঘ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরার ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব। এসময় আইইউবিএটি এর রেজিস্ট্রার মো. লুত্ফর রহমান, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ড. মফিজুর রহমান, কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ড. উত্পল কান্তি দাস, পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সেলের পরিচালক মো শরফুদ্দিন, উপ পরিচালক আলামিন শিকদার শিহাব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদেকুল ইসলাম।

উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব বলেন, ‘সামনে ঈদ, এই সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে অসহায় ও দুস্থরা যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই। করোনার এই দুর্দিনে বসুন্ধরার মতো যদি সমাজের আরো উচ্চবিত্তরা এগিয়ে আসত, তাহলে দেশের সব অসহায় মানুষের মুখেই হাসি ফুটানো সম্ভব হতো।’



সাতদিনের সেরা