kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

কালের কণ্ঠ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ওয়েবিনার

নারী অধিকারের আইনি ভিত্তি শক্ত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ২১:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারী অধিকারের আইনি ভিত্তি শক্ত করতে হবে

আমাদের সমাজে নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও নারীদের সব কাজের স্বীকৃতি নেই। নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়নের জন্য নৈতিক ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে নারীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা জরুরি। করোনা পরিস্থিতিতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং তার সুষ্ঠু বণ্টনে নজরদারি জোরদার করা অত্যাবশ্যক। 

‘কোভিড পরিস্থিতিতে জেন্ডারবান্ধব বাজেট : নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব বিষয় ওঠে এসেছে। রবিবার বিকালে কালের কণ্ঠ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এই দেশে নারীকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বিয়ের পর পুরুষরা ভাবে নারীরা সংসারের কাজ করবে আর বাচ্চা লালনপালন করবে। কিন্তু নারীর স্বাস্থ্য সমপর্কে তারা (পুরুষ) অনেক সময় খেয়াল রাখে না। গার্মেন্ট শিল্পে নারীদের অবদান রয়েছে। তবু সেখানে নারীরা এখনো ন্যায্যমূল্য পায় না। নারীরা বিভিন্ন জায়গায় পুরুষের সঙ্গে কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পেয়ে থাকে। এই সমস্যা তৃণমূল থেকেই দূর করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলেন, করোনার মধ্যে নারীদের ওপর সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ বেড়েছে। নারীরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরির মাধ্যমে নিজেদের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়টাতে কভিড এসে অর্থনৈতিক অবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে নারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নারীর অমূল্যায়িত শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হলে নারী অধিকারের আইনি ভিত্তি শক্ত করতে হবে। নারী ও পুরুষকে আইনে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাকে সম্পত্তির অধিকারের মধ্যে রাখতে হবে। শিশুর ওপর কর্তৃত্বের অধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার থাকতে হবে। নারীর নির্বাচনী অধিকার, পরিবার থেকে সবাইকে নৈতিক শিক্ষা ও নারীর অধিকারকে আইনি স্বীকৃতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধ করতে হবে। 

জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, সবার আগে আমাদেরকে নারীর অমূল্যায়িত কাজগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। বাস্তব জীবনে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা তাদের মুখ থেকেই জানতে হবে। প্রথাগতভাবেই সমাজটা পুরুষের। কাজ কিন্তু নারীরাই বেশি করছে। বাচ্চা জন্ম দেওয়া থেকে শুরু করে স্বামীর সেবা; সব কাজই একটি নারী করে। কিন্তু সমাজপতিরা বা পুরুষ শ্রেণি কখনোই এটার মূল্যায়ন করেনি।
 
জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জিডিপিতে নারীর অবদান এখন ২০ শতাংশ। তবে সংসারের ভেতরে-বাইরে নারী যে কাজ করে সেগুলোর মূল্যায়ন ধরলে এই অবদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশ। অর্থাত্ পুরুষের কাজের প্রায় সমান। কিন্তু নারীরা যখন ঘরের কাজ করে তখন সেই হিসাবের সঙ্গে এই অবদানটার পরিমাণ যোগ হচ্ছে না।

মূল প্রবন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জেন্ডার অ্যাডভাইজর বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, গত বছরের জেন্ডার বাজেট দেখে আমরা হতাশ হয়েছি। কারণ কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফলই সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন বাজেটের কার্যক্রম হয়তো হয়ে গেছে; কিন্তু নারীর ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার মতো বাজেট তৈরি হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। নারীর বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য নতুন কী ধরনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে সেটি বাজেটে ওঠে আসা দরকার। 

আলোচনায় আরো অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. শেখ মুসলিম মুন এবং আইএলও’র জেন্ডার বিশেষজ্ঞ শাম্মিন সুলতানা। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি আজিজুল পারভেজ।

আলোচকরা বলেন, সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি নারীকে আরো এক ধাপ দারিদ্র্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে ৪৫ শতাংশ নারী কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু তারা পরিবার থেকে এর বিনিময়ে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা মূল্যায়ন পায় না। এটার সুফল ভোগ করে পরিবারের পুরুষেরা।



সাতদিনের সেরা