kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

দেশে আইনের শাসন বলবৎ রাখতেই ভার্চুয়াল আদালত: সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ২১:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে আইনের শাসন বলবৎ রাখতেই ভার্চুয়াল আদালত: সুপ্রিম কোর্ট

দেশে আইনের শাসন বলবত রাখার লক্ষ্যে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে করোনাকালীন ভয়াবহ অতিমারির এই সময়ে দেশব্যাপী সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যেও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ, চেম্বার আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইবুনালসমূহে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন/জরুরী বিষয়সমূহ শুনানি এবং নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান এই বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির সদয় আদেশে বিগত ২৭ এপ্রিল ২০২১ খ্রি তারিখের ১৬/২০২১ নং বিজ্ঞপ্তি  মূলে দেশের অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের ফটো-সার্টিফাইড কপি অতি স্বল্প সময়ে প্রদান করা হচ্ছে ।  ফলশ্রুতিতে, মামলার পক্ষগণ অতি সহজে তা সংগ্রহ করে উচ্চতর আদালতে দাখিল করতে পারছেন। এই চরম দুঃসময়ে বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ জীবন বাজী রেখে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। অধস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিমারি মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েও, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল  উপস্থিতির মাধ্যমে ১৩ জুলাই ২০২০ খ্রি. হতে ০৬ মে ২০২১ খ্রি. পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে ১০,০০৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের প্রত্যেক বেঞ্চে প্রতিদিন ১০০ জনের অধিক বিজ্ঞ আইনজীবী শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে  ভার্চুয়াল  উপস্থিতিতে শুনানি করছেন। হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ এর অধিক ফৌজদারী আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও সর্বস্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারাদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যাতে বিচারপ্রার্থীগণ বিভিন্ন আবেদন দায়ের এবং শুনানি করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, বিগত ১২ এপ্রিল ২০২১ খ্রি তারিখ দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর  ১২ এপ্রিল হতে ০৬ মে, ২০২১ খ্রি তারিখ পর্যন্ত মোট ১৮ কার্যদিবসে সারাদেশে অধঃস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ৫৮,৬০৫ টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মোট ৩১,২০৮ জন হাজতী অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার মুক্ত হতে হয়েছেন। ইতোপূর্বে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় ১১ মে হতে ০৪ আগস্ট, ২০২০ খ্রি তারিখ পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবসে সারা দেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১,৪৭,৩৩৯ টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি এবং ৭২,২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট দুই দফায় সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ২,০৫,৯৪৪ টি ফৌজদারি মামলায় জামিনের আবেদন ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মোট ১,০৩,৪৩৭ জন হাজতী অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন প্রাপ্ত হয়ে কারাগার হতে মুক্ত  হয়েছেন।'

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনের সময় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ২১ জন মাননীয় বিচারপতি, অধস্তন আদালতের ২৩১ জন বিচারক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ২০০ জন কর্মচারী এবং অধস্তন আদালতের ৪৫৮ জন কর্মচারী করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অধস্তন আদালতের জেলা জজ পদমর্যাদার ১ জন বিচারক এবং ০৬ জন কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া সারা দেশে অসংখ্য আইনজীবী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবী মৃত্যুবরণ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সবাই বিচার কাজ সম্পাদনে সার্বিক সহায়তা করবেন-এটাই কাম্য।



সাতদিনের সেরা