kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সবার সহযোগিতা চাই: পরিবেশমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

৮ মে, ২০২১ ১৫:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সবার সহযোগিতা চাই: পরিবেশমন্ত্রী

প্রতিবেশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করা পাখিদের আবাসস্থল রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি পাখি নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আজ শনিবার (৮ মে) বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তর আয়োজিত অনলাইন আলোচনাসভায় এই সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি। 

'পাখির মতো গান গাই, উড়ে যাই সুউচ্চ দিগন্তে!'- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমে সুদূর সাইবেরিয়া এবং ইউরোপ থেকে বাঁচার তাগিদে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এসে আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে। এসব পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে পাখি নিধন কমেছে।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি; প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক এবং বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশন-এর সভাপতি ড. এস এম ইকবাল প্রমুখ।

পাখি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশে আবাসিক ও পরিযায়ী পাখিসহ প্রায় ৭১০ প্রজাতির পাখির মধ্যে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিলে ৬৫০ প্রজাতির পাখি রক্ষিত প্রাণি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিযায়ী পাখি শিকার বা হত্যার জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সোনাদিয়া, নিঝুম দ্বীপ, টাংগুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর এবং গাঙগুইরার চর ইস্ট এশিয়ান অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ে সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।'

মন্ত্রী আরো বলেন, 'পরিযায়ী জলচর পাখির পরিযায়ন পথবিষয়ক গবেষণার উদ্দেশ্যে পাখি শুমারি ও পাখির গায়ে রিং পরানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিপিএস স্যাটেলাইট ট্যাগিং করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিযায়ী পাখির পরিযায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে।'

বনমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী অবৈধভাবে পাখি শিকার ও বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীকে হাতনাতে ধরা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে এ সংক্রান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পথসভা, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

শাহাব উদ্দিন বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শামুকখোল পাখির কলোনীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারের মাঝে ৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন ,পাখি সহ বন্যপ্রাণি  সংরক্ষণে সরকার পুরস্কার প্রণোদনা প্রদান করে থাকে।

বনমন্ত্রী বলেন, 'মহাবিপন্ন' প্রাণি শকুনের জন্য মরণঘাতী ওষুধ ডাইক্লোফেনাক উৎপাদন ও বিক্রি সারা দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সুন্দরবন ও সিলেটে দুটি 'ভালচার সেইভ জোন' ঘোষণা করা হয়েছে। অসুস্থ ও আহত শকুনদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনাজপুরের সিংড়ায় একটি শকুন উদ্ধার ও পরির্চযা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় শকুন রক্ষায় ক্ষতিকর 'কিটোপ্রোফেন' ওষুধের উৎপাদন বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে বর্তমান সরকার পাখিসহ বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে সফল হবে।

অনলাইন আলোচনাসভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু,  বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি ড এস এম ইকবাল প্রমুখ।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অভ নেচার-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ বি এম সারোয়ার আলম প্রমুখ। আলোচকরা পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।



সাতদিনের সেরা