kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বেদে সেজে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচার, অবশেষে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মে, ২০২১ ১৭:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেদে সেজে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচার, অবশেষে ধরা

বেদের বেশ ধরে কক্সাবাজার থেকে ঢাকায় এনে ইয়াবা বিক্রিকারী চক্রের রক্ষা মিললো না এবার। অভিনব কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে তারা মাদক পাচার করে গেলেও গত মঙ্গলবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর বেড়িয়ে এসেছে তাদের অভিনব কৌশলের আদ্যেপান্ত। তারা জানিয়েছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে তারা মহাসড়ক ব্যবহার করতো না। তারা গ্রামের রাস্তা ও নদী পথ ব্যবহার করে ৫ থেকে ৭ দিন সময় ব্যয় করে ঢাকায় পৌঁছাতো। সেই চক্রের পাচ সদস্যকে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছদ্মবেশী মাদক কারবারীরা হলেন- তারিকুল ইসলাম (২৩), সিনবাদ (২৩) মিম মিয়া (২২), ইমন (১৯) ও মনির (২৮)।

র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে জানতে পারে একদল মাদক কারবারী মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। এ খবরের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকে পাচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের সাথে থাকা বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে। পরে চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং নানা ধরনের ইমিটেশন অলংকার উদ্ধার করা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, পারস্পরিক যোগসাজসে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্র পথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজড় এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসতো। মাদক পরিবহনের জন্য বহনযোগ্য টিনের তৈরি রান্নার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিতো। তারা মাদক চালানোর ক্ষেত্রে কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী পর্যন্ত নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখোনই মহাসড়ক ব্যবহার করতো না।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজি বাইক, সিএনজি অটোরিকশা, ট্রেম্পু ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিতো। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রথমে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী মানিকছড়ি গুইমারা রামগড় হয়ে ফেনী আসতো। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর চৌমুহনী সোনাইমুড়ি এবং চাদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসতো। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতো। এতে করে তাদের ৪/৫ দিন লেগে যেতো ঢাকা আসতে। এই দীর্ঘ সময় তারা বেদেদেরে মতো জীবন যাপন করতো। সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারী দ্রব্য যেমন চুড়ি, কড়ি, চুল বাধার ফিতা, শিশুদের কোমরে বাধার ঘণ্টা, চেইন, সেইফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করতো।



সাতদিনের সেরা