kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

ভার্চুয়াল সংলাপের বিশিষ্টজনরা

পাহাড়ে পানি সংকট নিরসনে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মে, ২০২১ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ে পানি সংকট নিরসনে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ জরুরি

পাহাড়ে পানি সংকট নিরসনে প্রাকৃতিক বন-সম্পদ রক্ষা ও সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। আজ সোমবার ‘পানি সংকটে জুম পাহাড়ের মানুষ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে অংশ নিয়ে তারা পাহাড়ের পানির উৎস ঝর্ণা, ছড়া ও ঝিরিগুলো সুরক্ষায় তালিকা তৈরী করে সেগুলো সরকারী ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইপিনিউজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আন্তোনি রেমা’র সঞ্চালনায় উক্ত ভার্চুয়াল সংলাপে অংশ নেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’র (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, প্রাণ বৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থ, বান্দরবানের সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুরাগ চাকমা, রাঙ্গামাটির মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, বান্দরবানের উন্নয়ন সংস্থা হিউমেনিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মং মং সিং মারমা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাহেদ হাসান প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পানি যেখানে থাকবে না, সেখানে জীবন থাকবে না। কাজেই পানি সংকট যেহেতু চলে আসছে, পাহাড়ে আরো নানান সংকট তৈরী হবে। তাই পাহাড়ের যে জায়গায় পানির তীব্র সংকট আছে, যে ঝিরি ও ঝর্ণাগুলোর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর তালিকা তৈরী করে  সেগুলোর সার্ভে, অবস্থান ও শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব নিরূপন করা জরুরী।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, প্রতি বছরই পাহাড়ের মানুষগুলোকে এই সংকটে পড়তে হয়। এর মূল কারণ হলো পাহাড়ে আগেকার দিনে বড় বড় গাছ ছিল। পাহাড় না কেটে আমরা ঘর-বাড়ী তৈরী করতাম। ছড়াগুলো ছন্দময় ছিল। ছড়ার পাথর তোলা, গাছ বিক্রি করা অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু এখন বন উজার হয়ে যাচ্ছে। জঙ্গল আগের মত সবুজ নেই। চারিদিকে ন্যাড়া পাহাড়। যার কারণে পাহাড়ে এখন পানির সংকট।

অধ্যাপক অনুরাগ চাকমা বলেন, পানি সংকটের মূলে অনাবৃষ্টি। তবে মানুষের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমও দায়ি। প্রাকৃতিক বন উজার হয়ে যাওয়ার ফলে পানি কাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের তথাকথিত উন্নয়ন পানির উৎসগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করছে।

সংলাপে আলোচকরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসীরা প্রয়োজনীয় পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় বহুদিন ধরে স্থানীয় আদিবাসীদের প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য উৎস ঝিরি, ঝর্ণা, ছড়া ও বিভিন্ন পানির প্রবাহ থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে সেই পানি প্রবাহ শুকিয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ায় স্থানীয় আদিবাসীরা পানি সংকটের মুখোমুখী হচ্ছেন। অন্যদিকে পার্বত্য আরেক জেলা রাঙ্গামাটির বরকল, বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিবাসীরা বহু দিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। এই সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।



সাতদিনের সেরা