kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ওয়েবিনারে শ্রমিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের দাবি

‘সব শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সব শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে’

করোনাকালে শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষাসহ পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ। তারা  বৃহস্পতিবার জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে ‘করোনাকালীন পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা : বাস্তবতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই দাবি তুলে ধরেন।

সেইফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি-এসআরএস, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান। বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরীর সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন বিল্স পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন। আলোচনায় অংশ নেন বিল্স মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, এসআরএস নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা, ব্লাস্টের উপ-পরিচালক মো. বরকত আলী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূইয়া ও মতিউর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) প্রতিনিধি কামরূল আহসান, এনসিসিডব্লিউই’র সদস্য সচিব নইমূল আহসান জুয়েল, এসআরএস’র প্রোগ্রাম অফিসার সিথি ঘোষ, জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ হোসাইন প্রমুখ।

দৈনিক কাজের সময় আট ঘন্টা নির্ধারণের জন্য মে দিবসের আন্দোলন হয়েছিল উল্লেখ করে বিল্স মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে সেই শ্রমিকরা এ ধরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এসআরএস’র সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, নিরাপদ শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। শ্রমের সাথে সংশিষ্ট অংশীজনদের মত-পথ-কৌশল ভিন্ন হতে পারে কিন্তু মূল লক্ষ্য অর্জনে পরষ্পরের প্রতি আস্থা থাকতে হবে। তিনি করোনাকালীন সময়ে শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষাসহ পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, আগে শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে হবে। শ্রমিক বাঁচলে কারখানা বাঁচবে। এজন্য শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে শ্রমিকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্লাস্টের মো. বরকত আলী বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে, এমতাবস্থায় শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক বিধি-বিধান অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। যাতে কোভিডের মত কোন মহামারিতে শ্রমিককে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।

স্কপের কামরূল আহসান বলেন, লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিধি মানা বা যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ক্রাইসিস কমিটির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা, কারখানা মালিকদের উদ্যোগে শ্রমিকদের করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন করে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা, করোনাকালের সুযোগ নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই না করা, শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা, ত্রিপক্ষীয় কমিটির কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।



সাতদিনের সেরা