kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে একযোগে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে একযোগে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ফাইল ছবি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, 'বাংলাদেশের পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে যা বিশ্ব দরবারের স্বীকৃতি পেয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।'

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, 'বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বিশ্ববাসীকে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও গ্রিন হাউস নির্গমন কমিয়ে আনতে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়তে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই উদ্যোগী হতে হবে।'

আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) ধরিত্রী দিবস ২০২১ উপলক্ষে ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত 'রোড টু গ্লাসগো: আমাদের পৃথিবীর পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সুরক্ষা' শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী। ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে যুক্ত হন তিনি।

পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ অনুবিভাগ) মো.  মনিরুজ্জামান, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, জেন্ডার ও মানবাধিকারকর্মী শিপা হাফিজা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের আইবিপি ম্যানেজার আবুল বাশার, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা প্রমুখ।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, 'এবারের বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উদযাপন তাৎপর্যপূর্ণ। এর কারণ করোনা মহামারির রূঢ় বাস্তবতা আমাদের শিখিয়েছে যে, আমরা যতই অর্থ-সম্পদে বিত্তশালী হই না কেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা যায় না। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপকরণগুলো আসে প্রকৃতি থেকে। আমরা বুঝতে পেরেছি প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডারকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। আজ আমরা যখন বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালন করছি, তখন করোনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আরো  বিপর্যয়কর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।'

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা এবং উত্তর-পুর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বেড়ে গেলে আমাদের দেশের ১৭ ভাগ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ তাদের আবাসন হারাতে পারে। অথচ এর জন্য দায়ী অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলো। তাই এর দায় তাঁদেরকে নিতে হবে। একা বাংলাদেশের পক্ষে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।'

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, 'একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য সেদেশের ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন। সামাজিক বনায়নসহ বনায়ন কার্যক্রম ও দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের ফলে দেশে বর্তমানে মোট বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.৩৭ শতাংশ। এটিকে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ২৪ শতাংশ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সরকার।' তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কৃষি বনায়ন, বসতবাড়ি বনায়ন, রাস্তার ধারে বনায়ন, জবরদখল করা জমিতে অংশগ্রহণমূলক বনায়ন, উপকূলীয় এলাকায় জেগে ওঠা চরে ম্যানগ্রোভ বনায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বনভূমির অবক্ষয় হ্রাসকরণ এবং বন্যপ্রাণি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্য।

জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকারের অংশ হিসাবে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে প্রশমন ও অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সাহায্য করার জন্য ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল উত্তোলনের একটি বিধান রাখা হয়েছিল তবে এখনো এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় যোগদানের মধ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ 'জলবায়ুবিষয়ক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে' দৃঢ় 'রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি'  ব্যক্ত করায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে (জলবায়ু তহবিল সম্পর্কিত ১০০ বিলিয়ন ডলার) দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেখতে পেয়ে আশাবাদী।

মন্ত্রী জানান, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি প্রশমনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই প্ল্যাটফর্মে জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিশ্ব ফোরামে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর পাশে রাখতে চেয়েছেন।



সাতদিনের সেরা