kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ম্যাজিস্ট্রেট-চিকিৎসক-পুলিশ বাগবিতণ্ডা

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনবেন হাইকোর্ট

‘শখের মামলা খারিজ হলে জরিমানা করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনবেন হাইকোর্ট

লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে ধানমন্ডির এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদনটি শুনবেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। তবে আদালত রিট আবেদনকারীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই রিট আবেদনটি খারিজ করা হলে তাকে বড় জরিমানা করা হবে। আদালত বলেন, এই মামলা করার আপনার এখতিয়ার নেই। এটা শখের মামলা। যদি এটা খারিজ করা হয় তবে আপনাকে (রিট আবেদনকারী) বড় জরিমানা করা হবে। এজন্য প্রস্তুত থাকবেন।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করার আবেদন জানালে আদালত উল্লেখিত মন্তব্য করে অনুমতি দেন। রিট আবেদনকারী উল্লেখিত ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় আদালত এ মন্তব্য করেন। তবে রিট আবদেনকারী ইউনুছ আলী আকন্দ আদালতকে বলেন, এটা জনস্বার্থের মামলা। 

লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে ধানমন্ডির এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সোমবার রিট আবদেন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। আবেদনে এই তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসককে হয়রানির অভিযোগ এনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর আগে এই আইনজীবী দুইদফা বিষয়টি আদালতের নজরে এনেও আদেশ পেতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় তিনি নিজেই রিট আবেদন করেন।

ওই ঘটনায় পুলিশ ও ডাক্তারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এমন আচরণ কাম্য নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেশাজীবী সংগঠনের এ ধরনের বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি দেওয়াও অনাকাঙ্ক্ষিত। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনও ওই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন।

গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। এনিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ এবং নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নিজ নিজ পক্ষে পৃথক পৃথকভাবে বিবৃতিতে দিয়ে বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।



সাতদিনের সেরা