kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ

‘সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে জনগণ টিকাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত’

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:১৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে জনগণ টিকাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত’

ফাইল ফটো

সরকারের ‘ভুল সিদ্ধান্তের’ কারণেই জনগণ টিকাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে এত বড় একটা বৈর্শ্বিক মহামারি, এত বড় একটা বিপর্যয়, সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও সরকার শুধু ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে তাদের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ফলে জনগণ আজকে টিকা পাচ্ছে না বা আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।'

তিনি বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা বহুবার কথা বলেছি। সরকার তখন কোনো কর্ণপাতই করেনি। আমরা তখনই বলেছিলাম যে শুধু ভারত থেকে ভ্যাকসিন না নিয়ে একই সঙ্গে আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং তাদের কাছ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।' 

মির্জা ফখরুল বলেন ‘আজকে কী অবস্থা দাঁড়িয়েছে? শুধু ভারতের কাছ থেকে একজন ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিনের যে ব্যবস্থা করেছিল, সেই ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। এখন নতুন করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেছে। এটা সংগ্রহ করতেও তো লেগে যাবে ৪-৫/৬ মাস। আজকে থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০ লাখ মানুষ টিকা পেয়েছেন- এটা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে। প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করার মানেই হলো টিকা আর নেই।'

তিনি বলেন, ‘যেখানে সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করে হার্ড ইউমেনিটি আনা প্রয়োজন, সেখানে আজকে সরকারের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং তাদের প্রোফিট তৈরি করার যে মানসিকতা, সেই সঙ্গে নিজেদের লোকগুলোকে আর্থিকভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গোটা জাতিকে আজকে বিপদগ্রস্ত করে ফেলা হয়েছে।'

তিনি বলেন, ‘যেটা আমরা মনে করি যে ক্রিমিনাল অফেন্স এবং এই একটা কারণেই আজকে এই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত এবং তার চলে যাওয়া উচিত।'

চলমান ‘লকডাউনে’ ‘দিন আনে দিন খায়’ দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষজনকে সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'সরকারের দায়িত্বটা কী? প্রয়োজনে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যদি এসব মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে তারা কোন কাজটা করছে। একটা কাজ করছে- ভিন্নমতকে দমন করছে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতি করছে, দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলছে।'

বিএনপি মহাসচিব জানান, গত ২৪ এপ্রিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চালের মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়া এবং ভারত থেকে ভ্যাকসিনপ্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে সভা মনে করে।

তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে অবিলম্বে মূল্য পরিশোধিত ভ্যাকসিন সরবারহের জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে। বর্থ হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।'

কভিড মোকাবেলায় সরকার আন্তরিক নয় অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের মতো আমরাও এ দেশে আশঙ্কা বরাবরই করছি। এটা এই  সরকারের চরম ব্যর্থতা। কভিড মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা জানি, সমস্যা আছে, এখানে জনসংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু ন্যূনতম যে আন্তরিকতা। আপনারা লক্ষ করে দেখবেন, আন্তরিকতাটা কোথায়? এই ভ্যাকসিন আনার ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করেছেন, ভ্যাকসিন আনার ক্ষেত্রেও একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানকে যিনি তাদের সঙ্গে সংযুক্ত তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যার ফলে চরম বিপর্যয় ঘটল।'

সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে যে কাণ্ড-কারখানা হয়েছে, সেই কাণ্ড-কারখানাগুলোতে আপনারা জানেন, কিভাবে অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে, কিভাবে ফলস রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, কয়েক দিন আগে পত্রিকায় এসেছে ৯৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে কয়েকটি হাসপাতালে। এটা তো তাদের চরম ব্যর্থতা। কয়েক দিন আগে বলেছি, এয়ারপোর্টে দশ মাস ধরে পড়ে থাকল করোনার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, সেগুলো ছাড় করতে পারেনি, হাসপাতাল উদাও হয়ে গেল, সেখানে আবারও পয়সা মারতে নতুন করে হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। এই সরকার তো জনগণের সরকার নয়, জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।'

লকডাউন বাস্তবায়নে একসময় সামরিক বাহিনীও রাস্তায় নেমেছিল, কনট্রোল করছিল। দেখুন এবার কিন্তু লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য পুলিশ বাহিনী ছাড়া আর কেউ নেই। পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে থেকে বলছে যে আমরা অসহায়। কী করব বলুন? কিছু নিয়ন্ত্রণ করার তো উপায় নেই। দ্বিতীয় দিন থেকে অসংখ্য গাড়ি নেমেছে। ঢাকা শহরে কেউ বলবে না লকডাউন আছে?

তিনি বলেন, ‘সরকারের চরম ব্যর্থতা। বাংলাদেশ করোনা খাতে তাদের জিডিপির এক দশমিক তিন ভাগ ব্যয় করছে। আফগানিস্তানও জিডিপির ২%-এর ওপরে ব্যয় করছে। এটাকে কী বলে? এটা বলে যে সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে, তারা বিভিন্ন দেশে বাইরে বাড়ি-ঘর তৈরি করছে এবং করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে তারা দুই-তিন শ কোটি টাকার মালিক হয়েছে।



সাতদিনের সেরা