kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

দ্বিতীয় পরীক্ষায় পজিটিভ হলেও উপসর্গ নেই

খালেদা জিয়া ভালো আছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদা জিয়া ভালো আছেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হলেও তাঁর শারীরিক কোনো উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা বলছেন, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, খাবারের রুচি, শরীরের তাপমাত্রা—সব কিছুই সুস্থ মানুষের যেমনটা থাকে ঠিক তেমনটাই আছে। কোনো কফ বা কাশিও নেই। শুধু কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে।

গতকাল রবিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমরা খুবই কনসার্ন। বলতে পারেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থা মনিটরিং করা হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন কি বিপদমুক্ত—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ হোসেন আরো বলেন, ‘নতুন যে করোনার ভেরিয়েন্ট, এতে অনেক রোগী ভালো হওয়ার পরও পজিটিভ হন। আবার শরীরে ভাইরাস মৃত থাকলেও ফলস পজিটিভ আসে। উনি (খালেদা জিয়া) যেভাবে এগোচ্ছেন তা ইতিবাচক বলতে পারি। কেননা তাঁর শরীরে করোনার কোনো উপসর্গই নেই দুর্বলতা ছাড়া। আমরা আশা করছি, পরবর্তী নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসবে।’

আগামী পাঁচ-সাত দিন পর আবার নমুনা পরীক্ষায় খালেদা জিয়ার করোনা নেগেটিভ আসবে বলে চিকিৎসকরা আশা করছেন।

গত শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. এ এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। এ সময় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা. আব্দুর সবুর, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।

পরে রাত পৌনে ১২টায় খালেদা জিয়ার বাসা থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের ডা. সিদ্দিকী বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার নতুন করে করা রিপোর্টগুলো ও তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখেছেন। তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন, অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আরো বলেন, কভিডের যে বিপজ্জনক সময় তা ম্যাডাম পার করেছেন। এ সময় যে জটিলতা তা হয়নি। কভিডের যে বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা, তার আশঙ্কা থেকে মুক্ত।’

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া এক বছর ধরে বাসায়ই আছেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অন্য কোনো পরীক্ষা করতে পারিনি। এখন আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, কভিডের বাইরে যে পরীক্ষা নতুন করে করা দরকার তা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে করাব।’ তিনি বলেন, ‘বাসায় যাঁরা ছিলেন, প্রায় ১৪ জনের মতো, সবার পরীক্ষা করেছি। তাঁদের মধ্যে ম্যাডামসহ চারজন পজিটিভ হয়েছেন। তাঁরা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ, কোনো সমস্যা নেই।’

গত ১৫ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়। সিটি স্ক্যান শেষে ডা. জাহিদ জানিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার শরীরে করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য। যে কারণে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। এর পর থেকে চিকিৎসকরা তাঁর বাসায় গিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। 

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়।



সাতদিনের সেরা