kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্যের উল্টো কাজ করছে সরকার: জাতীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্যের উল্টো কাজ করছে সরকার: জাতীয় কমিটি

প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদের কথা বললেও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঠিক তার উল্টো কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন প্রতারণা ও স্ববিরোধিতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

জাতীয় কমিটির পক্ষে রুহিন হোসেন প্রিন্স স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় চার দফা সুপারিশ দিয়েছেন। তিনি সুপারিশে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াসে রাখতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উপায় উদ্ভাবনের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের জন্য বিশেষ ছাড়, সবুজ অর্থনীতি ও কার্বন প্রশমন প্রযুক্তিগুলোর ওপর দৃষ্টি দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সম্মেলনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমিয়ে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর জোর দিচ্ছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদ, দেশে পরিবেশ রক্ষা, ক্ষতিপূরণের জন্য তহবিল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওবার কথা বলা হলেও সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঠিক তার উল্টো কাজ করে যাচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। তাই বিপদ মোকাবিলায় প্রয়োজন উপকূল অঞ্চলে বনায়ন ও উপকূলকে আরো সুরক্ষিত করা। কিন্তু সরকার জোরজবরদস্তি করে, বিশেষজ্ঞ মতামত ও জনমত অগ্রাহ্য করে উল্টো পথে চলছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সারাদেশের নদী ও বন দুটোই বিপর্যস্ত হচ্ছে। উপকূল জুড়ে মাতারবাড়ী, বাঁশখালী থেকে রামপাল, পায়রা পর্যন্ত একের পর এক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে পুরো দেশকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প করেই সরকার ক্ষান্ত হচ্ছে না, সুন্দরবন ঘিরে বন-নদী বিনাশী আরো প্রকল্প করছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দমনে সক্রিয় আছে পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকারের অপতৎপরতা ও বল প্রয়োগ নীতি অবলম্বনের সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত বাঁশখালী। ২০১৬ সাল থেকে অনিয়ম, মিথ্যাচার ও মানুষ খুনের ওপর এই প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সম্প্রতি ৭ জন খুন এবং বহুজন জখম হয়েছেন। খুনিদের বিচার না করে সরকারি সংস্থা শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। অবিলম্বে রামপাল-রূপপুর-বাঁশখালী-মাতারবাড়ীসহ প্রাণ-প্রকৃত-নদী-বন বিনাশী সকল প্রকল্প বাতিল এবং বাঁশখালী হত্যাকান্ডের বিচারসহ নিহত আহতদের সম্মানজনক ও যুক্তিযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।



সাতদিনের সেরা