kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

সেলাই করা খোলা মুখ

করোনাকালেও ঘুষ বাণিজ্যের পালে হাওয়া

মোফাজ্জল করিম   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



করোনাকালেও ঘুষ বাণিজ্যের পালে হাওয়া

আজ থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে (১২ এপ্রিল, সোমবার) একটি দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় ঘুষ-বাণিজ্য বিষয়ক পিলে চমকানো একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়, যা ছিল ওই কাগজের সেদিনের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনটি পাঠ করে মনে হলো এতদিন শুধু বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আজান দিয়ে ঘুষ খাওয়ার কথা শুনেছি, আর এখন শুধু আজান নয়, ঘুষের কুশীলবরা স্ব স্ব ধর্মের প্রথা মেনে ‘উলুধ্বনি দিয়ে, শাঁখ বাজিয়েও’ আসর গরম করছেন। আগে ছিঁচকে চোরদের উৎপাত ছিল বেশি, তাদের ভয়ডর, রাখঢাক, লজ্জা-শরমের বালাই ছিল, আর এখনকার দস্যু বাহরাম-রঘু ডাকাতরা বুকে থাবড়া দিয়ে দিন-দুপুরে সড়কি-বল্লম-রামদা নিয়ে হানা দেয়।

একটু ঝেড়ে কাশা যাক। প্রাগুক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে কারিগরি জনবলে ঘাটতি মেটাতে গত বছর উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এবং যথাসময়ে ৮০ নম্বরের লিখিত ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের খটকা লাগে, যখন তারা দেখতে পায় লিখিত পরীক্ষায় অনেক পরীক্ষার্থী ৮০ নম্বরের মধ্যে ৭৯ বা তার কাছাকাছি নম্বর পেয়েছেন। নিয়োগ কমিটির দুজন সদস্যকে তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ করে এবং লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায়ে অবিশ্বাস্য রকম বেশি নম্বর পাওয়া কোনো ‘অতি মেধাবী’ প্রার্থী যাতে পার না পায় সে জন্য ড্যামেজ কন্ট্রোল ব্যবস্থা হিসেবে যথেষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবুল হাশেম শেখ, যিনি নিয়োগ কমিটিরও একজন সদস্য, গত ৮ মার্চ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে এমন একটি অভিযোগের কথা জানান, যে ধরনের অভিযোগ আমি আমার ৩৫-৪০ বছরের চাকরি জীবনে কখনো শুনিনি। রীতিমতো ‘টাসকি লাগার’ মতো অভিযোগটি হচ্ছে এ রকম : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, হ্যাঁ, কর্মরত উপসচিব, কোনো টাউট-বাটপাড় নয়, শ্রীনিবাস দেবনাথ মহাশয় নাকি গত ১ মার্চ তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘শুক্রবারে আপনাকে এক কোটি টাকা দেব, কোথায় দেখা করব?’ কেন দেবেন জানতে চাইলে উপসচিব মহোদয় নাকি বলেন, ‘আমরা যে তালিকা দেব, তাঁদেরকে ভাইভা বোর্ডে পাস করিয়ে দিতে হবে, তারা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেছেন।’ এরপর ওই উপসচিবরূপী রঘু ডাকাত নাকি ডা. হাশেমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদোন্নতি পাইয়ে দেবার লোভও দেখান। এক পর্যায়ে আরিফুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে হাশেম সাহেবের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নাকি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস। তিনি ডা. হাশেমকে বলেন, শ্রীনিবাস যেভাবে বলছেন সেভাবে কাজ করতে হবে। আর অঘটনঘটনপটীয়সী উপসচিব মহোদয় আরও জানালেন : এক কোটি টাকা শেষ নয়, নিয়োগের পরে আরও পাবেন, চিন্তা করে দেখুন।

২.

শুধু ডা. হাশেম নয়, বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সরকার তথা সমগ্র জাতিকে ‘চিন্তা করে’ দেখতে হবে। দুর্নীতি এখন আর টেবিলের তলা দিয়ে প্যাকেট দেওয়া-দেওয়ি বা বাসায় দেখা করাকরির সনাতনি পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ নয়, দুর্নীতির কলাগাছ এখন বিশাল বটগাছে পরিণত হয়েছে। আর তাতে বাসা বেঁধেছে উপসচিব শ্রীনিবাসের মতো মামদো ভূতেরা। তবে আমি সবার আগে প্রিয় পুরান ঢাকার ভাষায় শাব্বাসি দেই ডা. আবুল হাশেম শেখকে, যিনি এক কোটি টাকার হারাম কারবারকে শুধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানই করেননি, তাঁর বসকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এতে আমার মনে হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারে সৎ, দৃঢ়চেতা, সাহসী ও কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মকর্তা স্বল্প সংখ্যায় হলেও এখনো আছেন। আর এঁরা আছেন বলেই প্রশাসনের আকাশে এখনো সূর্য ওঠে, চাঁঁদ ওঠে ন্যায়নীতি ও সুবিচারের সলতে টিমটিম করে হলেও জ্বলে। বেঁচে থাকুন ডা. হাশেমরা।

দুই দশকেরও আগে ছেড়ে আসা জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও মেধা নিয়ে ইদানীং অনেক কথাই শুনতে পাই। ওসব নিয়ে আমি বড় একটা গা করি না। কারণ আমি মনে করি দক্ষতা-যোগ্যতা ইত্যাদি আপেক্ষিক ব্যাপার, যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এগুলো ঘষেমেজে চালিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু দুর্নীতির করোনাভাইরাস একবার বিস্তার লাভ করলে রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র আইসিইউতে ঢুকে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কর্তৃপক্ষীয় তৎপরতা এ বিষয়ে খুব একটা দৃশ্যমান নয়। শুধুমাত্র দুদকের মতো একটি নিধিরাম সর্দার প্রতিষ্ঠান বানিয়ে, আর বছরে দু-চারজন কালো টাকার মালিক পাবলিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে—যে মামলার সমাপনীতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ঘটনা বিরল, আর যাই হোক, প্রশাসনের ঘাগু রুস্তম পাহলোয়ান শ্রীনিবাস চক্রকে দমন করা যাবে না। বিশেষ করে যখন শোনা যায় এদের হাত নাকি অনেক লম্বা।

যে প্রতিবেদন নিয়ে আজকের আলোচনা তার শেষাংশে আরেক বিবেকসমপন্ন সাহসিকা সরকারি কর্মকর্তারও উল্লেখ আছে। এবং তা একই প্রসঙ্গে। তিনি হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ও আলোচ্য নিয়োগ কমিটির আরেক সদস্য শারমিন আক্তার জাহান। তিনিও তাঁর বসের কাছে একই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। তাঁর দাবি, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। শারমিন লিখেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এই নীতিবান কর্মকর্তাকেও জানাই অভিনন্দন।

শারমিন আক্তার তাঁঁর বসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন প্রায় দুই মাস আগে, অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে বলেননি। বস নিয়োগ কমিটি থেকে দুজন সদস্যকে সরিয়ে দিয়েছেন। তারপর? তারপর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গানের ভাষায় বলতে হয়, ‘তার আর পর নেই নেই কোনো ঠিকানা।’ অন্য দশটা অভিযোগের ভাগ্যে যা ঘটে শারমিন আক্তার ও ডা. হাশেমের অভিযোগের বেলায়ও তাই হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব পত্র দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে অভিযুক্ত দুই সদস্যকে নিয়োগ কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভালো কথা। কিন্তু এটা কি এখানেই থেমে থাকার বিষয়? একজন উপসচিব টাকার বস্তা নিয়ে গিয়ে ঘুষ সাধলেন তাঁর থেকে নিম্ন পর্যায়ের (উপপরিচালক) কর্মকর্তাকে, যিনি সেটা লিখিতভাবে জানালেনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে, আর কর্তৃপক্ষ কি না গত দেড় মাসে শুধু মূষিক প্রসব করেই আপাতত দায় সারলেন। কেন, একজন কর্মকর্তার এমন একটি বোমা ফাটানো অভিযোগের ভিত্তিতে কি সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে একটি শোকজও করা উচিত ছিল না? অভিযোগকারী তো যদু-মধু-কদু কেউ না, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর অভিযোগও কোনো বাত-কি-বাত নালিশ না, রীতিমতো লিখিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে তো অভিযুক্তকে তাত্ক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করে সিনিয়র কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করার আদেশ দেওয়া বিধেয় ছিল। তা না করে সেই দুই যুগ আগে আমাদের আমলে বা তার অনেক অনেক আগে আমাদের প্রশাসনিক দাদাদের আমলে যেভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তি হতো সেই পন্থাই মনে হয় অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই থোড়-বড়ি-খাড়া, খাড়া-বড়ি-থোড়। এসব ক্ষেত্রে দিনশেষে বেশির ভাগ সময় যা হয় তা হলো অভিযোগের স্বাভাবিক মৃত্যু বা ন্যাচারাল ডেথ। জেলখানায় অভিযুক্ত হাজতির মৃত্যুর মতো। আর না হয় বড়জোর পর্বতের মূষিক প্রসব : দোষী কর্মকর্তাকে ছোটখাটো একটা মুখরক্ষা গোছের শাস্তি প্রদান।

আরেকটি বিস্ময়কর ব্যাপার। দুই সপ্তাহ হতে চলল অথচ কোনো মহল থেকে প্রতিবেদনটির ব্যাপারে কোনো হাঁ, না প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ, কোনো উচ্চবাচ্য নেই। সংশ্লিষ্ট দৈনিকটিও আর কোনো ‘ফলো-আপ’ প্রকাশ করেনি। খবরটা মনে হয় হারিয়ে গেছে। ফলে যে শ্বাসরুদ্ধকর নাটকটির প্রথম অঙ্ক, প্রথম দৃশ্যের অভিনয় দর্শকরা চোখ গোল গোল করে দেখছিল তার পরের অংশে কী ঘটল তা দেখতে না পেয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের জ্বলুনি-পুড়ুনি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষ হয়তো অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছে; কিন্তু দর্শক তো এই লকডাউনে গৃহবন্দি জীবনে এমন একটা রগরগে ‘মুম্বাইয়া ফিলিম’ দেখার প্রত্যাশা করতেই পারে। আর কর্তৃপক্ষের এই প্রবাদপ্রতিম ‘কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো’ নীতি ও সেই সঙ্গে মৌনীবাবার ভূমিকা দেখে কোনো বিদূষক যদি ভুল বুঝে বলে বসে এটা হচ্ছে ‘দুর্নীতিবাজ তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ নীতিরই বাস্তবায়ন, তা হলে কি তাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যাবে? তাই অনুরোধ করব ঢেঁকি গেলার নয়, মুখ খোলার। সদাশয় কর্তৃপক্ষ, মুখ খুলুন, একটু আলোকসম্পাত করুন, জাতিকে আর অন্ধকারে রাখবেন না।

করোনা দেবীর অপার করুণায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য যখন লাটে ওঠার উপক্রম, তখন মাশাআল্লাহ, নিয়োগ-বাণিজ্যের পালে এ রকম হাওয়া লাগতে দেখে রীতিমতো হিংসা হচ্ছে। নিয়োগ-বাণিজ্য হচ্ছে দুর্নীতি-বাণিজ্যেরই অপেক্ষাকৃত নতুন একটি শাখা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্নীতির সদম্ভ সম্প্রসারণের কথা এখন আর শুধু বক্তৃতা-বিবৃতির মাঠ গরম করা বিষয় না, এখন এর আঁচ লেগে দেশের সব শ্রেণির মানুষের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের। রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যখন মরণোন্মুখ অবস্থায় পড়েও চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইয়ের পথ ধরছে না, তখন সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের বিনা পুঁজির সাইড-বিজনেস এবং তাতে তাদের নিরঙ্কুশ সাফল্য এখনি বন্ধ না করলে যে তলাবিহীন ঝুড়িটির তলা সোনা দিয়ে বাঁধাই করেছে এ দেশের মেহনতি মানুষ, সেই তলাটির সোনাটুকু এরা অচিরেই লোপাট করে দেশকে না আবার ব্যাক টু স্কোয়ার নাম্বার ওয়ান বা পুনর্মূষিকো ভব অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় এ শঙ্কা জাগে মনে। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় এরা চাটা। এদের অবিলম্বে নির্মূল করতে হবে।

৩.

দুর্নীতি আগেও ছিল, এখনো আছে, হয়তো কোনোকালেই একেবারে নির্মূল হবে না। কিন্তু কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের চোখ-ধাঁধানো উন্নতিতে শ্রীনিবাসবাবুদের সৎ, নিষ্ঠাবান সহকর্মীরাই তো অবদান রাখছেন। তাঁরা এই কোটি টাকার বস্তা কাঁধে হাজির হওয়া ফেরিওয়ালা সহকর্মীদের ললিপপ দেখানো দুর্নীতি-বাণিজ্য থেকে কতক্ষণ মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারবেন, সেটা ভাববার বিষয়। তাঁরাও তো রক্ত-মাংসের মানুষ। অন্তত তাঁদের রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এবং তা এখনি।

উনিশ শ ষাটের দশকের শেষভাগে সিভিল সার্ভিসের চাকরি জীবনের শুরুতে আমি তখন পাবনায় সহকারী কমিশনার। ওই সময় পাবনায় একটা চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির মামলা চলছিল জজকোর্টে। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন পাবনা জেলায় মাত্র বছর চারেক আগে কর্মরত জনৈক জেলা প্রশাসক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি জেলা পরিষদের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে উৎকাচ হিসেবে গৃহনির্মাণসামগ্রী নিয়ে ঢাকায় বাড়ি বানিয়েছিলেন। সেই সিএসপি জেলা প্রশাসককে ওই জেলাতেই হাজতবাস করতে হয়, দিনের পর দিন হাতকড়া পরে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। শহরের লোক হা করে সেই দৃশ্য দেখত। কিছুদিন পর মামলায় তাঁর জেল হয় এবং যে জেলায় কিছুদিন আগে তিনি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী জেলা প্রশাসক ছিলেন, সেই জেলার জেলখানাই হয় তাঁর নিবাস। মাননীয় জেলা প্রশাসকের সুদৃশ্য সরকারি ভবন থেকে সেই জেলখানার দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক শ গজ। উদাহরণটা দিলাম আমার অনুজপ্রতিম সহকর্মীদের পবিত্র কুরআন শরীফের ওই আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দিতে : ওয়া তু ইয্যু মান তাশা-উ ওয়া তুযিল্লু মান তাশা-উ; বিয়াদিকাল খাইর; ইন্নাকা আ’লা কুল্লি শাইইন কাদির। (বঙ্গানুবাদ : আর যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা আপনি অপমানিত করেন; আপনারই হাতে রয়েছে সমস্ত কল্যাণ। সূরা : আল ইমরান, আয়াত ২৬)।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি
[email protected]



সাতদিনের সেরা