kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

বিশিষ্ট ২২জন নাগরিকের যৌথ বিবৃতি

মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অন্য শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অন্য শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি

ফাইল ফটো

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে উপজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দেশের ২২জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ বুধবার গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতি শিক্ষাবর্ষেই আদিবাসী (ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত উপজাতি) কোটায় নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোতেও অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়ে আসছে। এতে প্রতিবছরই অনেক আদিবাসী শিক্ষার্থীই মেডিকেল কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতে এবছর আদিবাসী (উপজাতি) কোটায় ৩৩ জন শিক্ষার্থীর আসন বরাদ্দ ছিলো। যার মধ্যে পার্বত্য তিন জেলার আদিবাসীদের (কোড-৭১, ৭৩, ৭৫) জন্য ৯টি, পার্বত্য তিন জেলার অ-আদিবাসীদের (কোড- ৭২, ৭৪, ৭৬) জন্য ৩টি, অন্যান্য জেলার আদিবাসীদের (কোড- ৭৭) জন্য ৮টি এবং রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে ১৩টি। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে আদিবাসী (উপজাতি) কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে অন্যান্য জেলার আদিবাসীদের জন্য ৭৭ কোডে ৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জনই অ-আদিবাসীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া ৭১ কোডে একজন ও ৭২, ৭৪, ৭৬ কোডে অতিরিক্ত ৩ জন অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়াও ৭৭ কোডের অপেক্ষমান তালিকায় ৫ জনের মধ্যে ২জন অ-আদিবাসী (সিরয়িাল নং ২ ও ৫) শিক্ষার্থী রয়েছে। এসকল শিক্ষার্থীর কেহই সরকারের গেজেটভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (আদিবাসী) সদস্য নয়।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এসকল রোলধারী অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত করে তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য রামেন্দ্র মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, কলেজ বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, উন্নয়ন কর্মী খুশী কবির, নারী নেত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবির, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এস এম এ সবুর, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত ও অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ ও অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল বারী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতি কর্মী এ কে আজাদ ও অলক দাস গুপ্ত, আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপয়ন খীসা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের বিভূতী ভূষণ মাহাতো এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল।



সাতদিনের সেরা