kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

ভারত ছাড়াও অন্য দেশ থেকে টিকা আনার চেষ্টা

► হাতে আছে মাত্র দুই সপ্তাহের টিকা
► টাকা দিয়েছি, টিকা চাই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
► জনসন মডার্না, চীন ও রাশিয়ার টিকার জন্য যোগাযোগ
► প্রয়োজনে বেসরকারি খাতেও টিকা ছাড়তে রাজি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৫৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভারত ছাড়াও অন্য দেশ থেকে টিকা আনার চেষ্টা

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি অনুযায়ী পাওনা বাকি দুই কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকা যত তাড়াতাড়ি দেশে আনা যায়, সেই চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে অন্যান্য দেশ থেকেও টিকা সংগ্রহের। এ ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারি পর্যায় থেকেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ চলছে, তেমনি দেশের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেশে আনার জন্য এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দিয়েছে একাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান আরো আগেই এ আবেদন করেছিল। সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে তারা চুপ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার সরকারের পক্ষ থেকেই তাদের ডেকে পুনরায় আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন থেকেও টিকা আনার জন্য দেনদরবার শুরু হয়েছে সরকারি পর্যায় থেকেই। এ ক্ষেত্রে দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান ওই দুই দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে আমদানির বিষয়ে। এগুলো সমন্বয়ের কাজ চলছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে সার্বিক বিষয়টি নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যোগাযোগ থেমে নেই। যেখান থেকেই আমরা গ্রহণযোগ্য টিকা পাব, তা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখন বিভিন্ন দেশেই টিকার ক্রাইসিস চলছে, নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টার কোনো ঘাটতি রাখছি না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কেবল সরকারিভাবেই না, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি এগিয়ে আসার জন্য। এখন মানুষকে টিকা দেওয়া দরকার। যেভাবে, যে মাধ্যম থেকেই পাব, সেগুলোই আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নজর রাখছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রয়োজনে কোনো কম্পানি যদি বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে টিকা নিয়ে আসতে চায়, সে বিষয়টিও আমরা এখন বিবেচনায় রেখেছি।’

এদিকে ১২ দিনে দেশে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৯ জন। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার এক দিনে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজার ৯০২ জন। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নিয়েছেন মোট ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫ জন। গতকাল প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৫ হাজার ৯৩৮ জন। অন্যদিকে টিকার মোট নিবন্ধন করেছেন ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখা সূত্র থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে টিকা দেওয়া হয়েছে ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ২৭৪ ডোজ। সরকারের হাতে মোট টিকা ছিল এক কোটি দুই লাখ ডোজ। এখন হাতে আছে ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭২৬ ডোজ। ফলে একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ চালু রাখলে হাতে থাকা টিকা দিয়ে আর দুই সপ্তাহের মতো চলতে পারে। ফলে পরের জন্য টিকা সংগ্রহ নিয়ে ক্রমেই চিন্তা বাড়ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। সেদিকে নজর রেখে এখন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ছাড়াও বিভিন্ন দেশের টিকা সংগ্রহে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও টিকা সংগ্রহে কাজ শুরু করেছে।

করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বৈঠক করে আবারও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি যেকোনোভাবেই হোক দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে টিকা সংগ্রহ করার জন্য। টিকা নিয়ে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখার জন্য আগে থেকেই আমরা জোর দিয়ে আসছি।’

ভারতের সেরাম থেকে টিকা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাকা দিয়ে টিকা কিনেছি। আমরা এখন আমাদের টিকা চাই; টিকার দাবি জানাচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা অনেকগুলো চিঠি দিয়েছি। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমি আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা টিকা পেয়ে যাব।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা ব্যবস্থাপনা শাখার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও আগামী মে মাস থেকে কিছু কিছু করে টিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।



সাতদিনের সেরা