kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

ডা. রুপম হত্যাকাণ্ড : মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টনের জামিন বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডা. রুপম হত্যাকাণ্ড : মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টনের জামিন বহাল

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুটি ক্লিনিকের বিরোধের জের ধরে সাড়ে আট বছর আগে ডা. মো. মনিরুল হুদা রূপম হত্যা মামলার আসামি মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মিল্টনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মিল্টন চেয়ারম্যানের জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলছেন আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। মিল্টন চেয়ারম্যানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা যমুনা ক্লিনিকের চিকিৎসক ছিলেন ডা. রুপম। তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। কিন্তু তিনি যমুনা ক্লিনিক ছেড়ে একই এলাকার আল মদিনা ক্লিনিকে যোগ দিলে তা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা ২০১২ সালের ১৭ জুলাই। দুই দিন পর নিজের গাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় মামলা করে নিহত রুপমের পরিবার। 
মামলায় যমুনা ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিসুর রহমান চৌধুরী নোমানকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৪ মে ফাইনাল রিপোর্ট দেয় পুলিশ। এর বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজির আবেদন দিলে আদালত তা গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর প্রিন্স হক নামে এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিটিভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই প্রিন্স আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। 

এরপর নিহত রুপমের গাড়িচালক শিপন মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে ডিবি পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এর বিরুদ্ধেও বাদীপক্ষ নারাজির আবেদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পিবিআই ও সর্বশেষ সিআইডি এ মামলায় তদন্ত করে। যমুনা ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিসুর রহমান চৌধুরী নোমান, গাড়িচালক শিপন, মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মিল্টনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এরপর চেয়ারম্যান মিল্টন গত বছর ১৮ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামিন দেন হাইকোর্ট। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এই জামিন আদেশ স্থগিত করে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে মিল্টনের হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।



সাতদিনের সেরা