kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

চিকিৎসক-পুলিশ বাগবিতণ্ডা : পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে হাইকোর্টের অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসক-পুলিশ বাগবিতণ্ডা : পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে হাইকোর্টের অসন্তোষ

লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে ধানমণ্ডির এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশ ও ডাক্তারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এমন আচরণ কাম্য নয়। আবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেশাজীবী সংগঠনের এ ধরনের বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি দেওয়াও অনাকাঙ্ক্ষিত।

আদালত বলেন, তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাদের কাছ থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন সবাই আশা করে। আদালত বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে দেশের সব মানুষই চাপের মধ্যে আছে। যেকোনোভাবেই হোক- একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আর তা নিয়ে কিছু পেশাজীবী সংগঠন যে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে তা কাম্য নয়। সবারই নমনীয় হওয়া উচিত।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন। ওই ঘটনার তদন্ত চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এ মন্তব্য করেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে তদন্ত চান। আগের দিনও এ আইনজীবী এ আদালতে ওই বাগবিতণ্ডার ঘটনায় আদালতের কাছে স্বপ্রণোদিত আদেশ চেয়েছিলেন। 

মঙ্গলবার আবেদনকারীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, গতকালও (সোমবার) আপনি এ বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো (ইউনুছ আলী আকন্দ) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। যদি কোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ এটা নিয়ে আদালতে আসেন, তবে বিষয়টি দেখা যেতে পারে। জবাবে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আমার মেয়ে একজন চিকিৎসক। আরো চিকিৎসক আত্মীয়-স্বজন আছে।
  
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনি তো বিষয়টি দেখতে পারেন। দুটি পেশাজীবী সংগঠন কিভাবে বিবৃতি দেয়? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওই ঘটনা (বাগবিতণ্ডা) অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত। 

গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধি-নিষেধের পঞ্চম দিনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

ভিডিওতে দেখা যায়, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ এবং নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বাগবিতণ্ডায় জড়ান। 

এ ঘটনায় সোমবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) এক বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। আবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এবং বাংলাদেশ ডক্টরস’ অ্যাসোসিয়েশন পৃথক পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়ে চিকিৎসককে হয়রানি করার অভিযোগে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।



সাতদিনের সেরা