kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

লকডাউনের সুযোগে শ্রদ্ধেয় আলেমদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লকডাউনের সুযোগে শ্রদ্ধেয় আলেমদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

ফাইল ফটো

লকডাউনের সুযোগে দেশে ধর্মীয় নেতা-আলেম-উলামাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে এই লকডাউনের সুযোগ নিয়ে আমি আগেও বলেছি যে একটা ক্র্যাকডাউন করা হয়েছে। সেই ক্র্যাকডাউনের মধ্য দিয়ে একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ধর্মীয় নেতা যারা আছেন, যারা আলেম-উলামা আছেন, তাদেরকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ, শ্রদ্ধেয় আলেম আছেন, এ দেশে মানুষের কাছে যারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলাও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ‘‘আমি আহ্বান জানাব যে অবিলম্বে এসব মামলা-মোকাদ্দমা তুলে ফেলা হোক, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন, আলেম-উলামা আছেন, তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করা হোক এবং বিএনপির যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাদের সব মামলা তুলে নেওয়া হোক।”

মির্জা ফখরুল বলেন, "ধর্মীয় নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে আজকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বুকে আঘাত করা হচ্ছে এবং তাদের আবেগ, সেন্টিমেন্ট সেখানে আঘাত করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ধর্মীয় নেতাদেরকে এভাবে অপমান করা, তাদেরকে এভাবে হয়রানি করা এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”

হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক দলও নয়। সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় সংগঠন।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে, এটা তো সরকারের তৈরি করা। আমি এর আগেও বলেছি। সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাগুলো যাতে ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে ২৬ মার্চ কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন একই সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক সংগঠন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে উপলক্ষ করে তারা  বিরোধিতা করেছিল এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিল।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি যে বায়তুল মোকাররমে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি হচ্ছিল তা শান্তিপূর্ণ ছিল। এটাকে অশান্তিপূর্ণ করে দেওয়ার পেছনে ছিল পুলিশের সবচেয়ে বড় ভূমিকা এবং তার পরে আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাসীরা, তারা আক্রমণ করে এটার ওপর পুরোপুরিভাবে হামলা চালায়। সে কারণে চট্টগ্রামের হাটাজারীতে ও ব্রাহ্মবাড়িয়ায় এ ঘটনাগুলো সংঘটিত হলো। সেই কথাগুলো কিন্তু তারা (সরকার) কখনোই বলছে না। তারা বারবার করে দোষ চাপাচ্ছে যে এসব ধর্মীয় সংগঠন এবং বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে ওইসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না। আমরা প্রতিবাদ করেছি, বিক্ষোভ করেছি- অবশ্যই। সেটা হচ্ছে যে মানুষকে যখন বিনা কারণে হত্যা করা হলো।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ৫০ বছর তাকে কলুষিত করা হয়েছে জনগণের-মানুষের রক্ত দিয়ে- সেটারই আমরা বিরোধিতা করেছি, আমরা প্রতিবাদ করেছি।'

ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এখন সম্পূর্ণ একটা গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই তাদের এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর ভর করে রাজনীতি করতে হচ্ছে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে বিচার বিভাগ দলীয়করণ করে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করে।'

‘সেই ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলে দিতে চাই, আমি মনে করি, তাদের কোনো অধিকারই নেই যে তারা এখনো বলবেন- আমরা গণতান্ত্রিক দল। উনি যে কথাগুলো বলছেন, এটা ভূতের মুখে রাম নামের মতো।'

গত ১৭ এপ্রিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব তুলে ধরেন।

এই বৈঠকে দেশের করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি, লকডাউনে নিম্ন আয়, দিন আনে দিন খায় মানুষজন, শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংকট, টিকার অনিশ্চিয়তা, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মহাসচিব ছাড়া বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা