kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

করোনাকাল মাথায় রেখে আগামী বাজেট

ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো দরকার : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকাল মাথায় রেখে আগামী বাজেট

আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে করোনাকালীন সংকট মোকাবেলার উপযুক্ত বাজেট। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতিফলন থাকবে। নতুন করে কোনো ভার কারো ওপর পড়বে না।

গতকাল রবিবার বাজেটবিষয়ক এক পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে অনলাইনে এই সভার আয়োজন করে। এতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর কাছে নিজেদের নানা দাবি তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দাবিগুলো যুক্তিযুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের বাজেট কমিটি একসঙ্গে আপনাদের দাবিগুলো নিয়ে বৈঠক করে বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য বাছাই করবে।’ তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো দরকার। তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা। এটা দেশের স্বার্থে করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমান দুর্যোগ মোকাবেলা করে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে চলেছেন। তাঁরা সরকারের সহযোগী। ব্যবসায়ীরা রাজস্ব পরিশোধ করেন বলেই সরকারের আয় হয়। আমরা একসঙ্গে অনেক দূর যাব—এ বিশ্বাস রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতেও এনবিআরকে আয় করতে হবে। এ জন্য কৌশল নিতে হবে। আগামী অর্থবছরে নতুন কর আরোপের কৌশল না নিতে এনবিআরকে অনুরোধ করব।’ এনবিআরের সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআর ১ মার্চ থেকে আগামী বাজেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বর্তমান এনবিআরের চেষ্টা করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। করের আওতা বাড়লে করের পরিমাণ কমবে। আমরা সে চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে কিছু অসাধু রাজস্ব ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছি। এমন ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে এনবিআর কঠোর অবস্থানে আছে। অডিটে দেওয়া তথ্য যাচাই করতে এনবিআর নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে যাচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে এনবিআর প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিয়েছে। আগামী অর্থবছরে এর সুফল পাওয়া যাবে।’ এতে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রিম আয়কর প্রদান কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা গত বাজেটেও অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবি করেছিলাম। সরকার বিবেচনা করে কিছুটা কমিয়েছে।’ আগামী দুই থেকে তিন অর্থবছরের মধ্যে অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

ফজলে ফাহিম বলেন, করপোরেট কর কমানো এখন সময়ের দাবি। করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় করপোরেট কর কমানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনা করতে হবে। অধিকসংখ্যক এসএমই প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এইচএসজনিত জটিলতায় রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে নতুনভাবে এইচএস কোড পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। আগামী বাজেটেই এ সমস্যার সমাধানে পরামর্শ দেন তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছরই এনবিআরের আদায় বাড়ছে। তবে এনবিআরের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে অর্থনীতিতে ভারসাম্য নষ্ট হয়।



সাতদিনের সেরা