kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ বৈশাখ ১৪২৮। ৬ মে ২০২১। ২৩ রমজান ১৪৪২

‘আগে জীবন, এরপর জীবিকা’

আইনজীবীদের নিরাপদে বাসায় থাকার পরামর্শ প্রধান বিচারপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইনজীবীদের নিরাপদে বাসায় থাকার পরামর্শ প্রধান বিচারপতির

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আইনজীবীদের নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আগে জীবন! নাকি জীবিকা? আমার তো মনে হয় আগে জীবন, পরে জীবিকা। করোনায় যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, এ অবস্থায় আমরা তো সব কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) খুলে দিতে পারি না। তিনি বলেন, ‘স্টে হোম, সেভ হোম।’

হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চ ভার্চুয়ালি খুলে দিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রবিবার প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানালে প্রধান বিচারপতি উল্লিখিত মন্তব্য করেন। আপিল বিভাগে মামলা শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার কাজল হাইকোর্ট বিভাগের কমপক্ষে ১০টি বেঞ্চ খুলে দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন সমিতির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগ ও চেম্বার আদালত মিলে সপ্তাহে পাঁচ দিনই সর্বোচ্চ আদালত চলছে। তাই আরো কয়েকটি হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু করা যেতে পারে। আর গত এক বছরে আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। তাই প্রয়োজনে আর ১০টি ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু করলে আইনজীবীরা উপকৃত হতো। আমি তো বারের সম্পাদক। তাই হাইকোর্টে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আপনার কাছে বলতে আইনজীবীরা আমাকেই বিভিন্নভাবে বলছেন। ব্যারিস্টার কাজল বলেন, অনেক আইনজীবী অর্থনৈতিক কষ্টে আছেন। রোজা চলছে। সামনে ঈদ। আইনজীবীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টে বেঞ্চ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি। একপর্যায়ে আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি মো. অজি উল্লাহও হাইকোর্টে জামিন ও রিট মোশনের বেঞ্চ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানান। এ সময় প্রধান বিচারপতি ছাড়া আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ বেশ কয়েকজন বিচারপতি এ নিয়ে কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরাও তো বার থেকেই এসেছি। তাই আইনজীবীদের সমস্যাগুলো বুঝি। জীবন ও জীবিকা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগে জীবন, এরপর জীকিা। তিনি বলেন, এ অবস্থায় হাইকোর্টে ভার্চুয়াল বেঞ্চের সংখ্যা বাড়াতে হলে অনেক স্টাফকে সশরীরে কোর্টে আসতে হবে। এতে জনবল বেড়ে যাবে এবং করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকিও বাড়বে। তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপিল বিভাগের সব বিচারপতির মতামত নেওয়া হয়। বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী সবার কথা চিন্তা করে বেঞ্চসংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা হাইকোর্টে ভার্চুয়াল বেঞ্চ বাড়ানোর বিষয়টি দেখব। প্রধান বিচারপতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া বার্তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘স্টে হোম, স্টে সেফ।’

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, কোর্টের স্টাফদেরও তো পরিবার আছে। তাদেরকে তো আমরা ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সমিতির সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি তো বারের সেক্রেটারি। আপনি তো শুধু আইনজীবীদের বিষয়টি দেখছেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতিকে আইনজীবীসহ সবার কথাই ভাবতে হয়। তাকে দেশের কথাও ভাবতে হয়। সব কিছু ভেবেই প্রধান বিচারপতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে হাইকোর্টে চারটি বেঞ্চ বসছেন। এ অবস্থায় আইনজীবীরা হাইকোর্টের বেঞ্চ বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন। তারা অব্যাহতভাবে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।



সাতদিনের সেরা