kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

রাজধানীতে বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ

বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার দাবি

বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জোটের নেতারা ওই ঘটনায় দায়ী মালিক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, আনসার ও সিকিউরিটি গার্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা সাজেদুল হক রুবেল, বাসদের (মার্ক্সবাদী) নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের তৈমুর খন্দকার অপু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আমেনা বেগম, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক।

সমাবেশে নেতারা বলেন, বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্লান্টের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ন্যায়সংগত দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মালিকের নির্দেশে পুলিশ, আনসার, সিকিউরিটি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। শ্রমিকদের দাবি ছিল মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, রোজায় বিকেল ৫টার মধ্যে ছুটি এবং ইফতারের জন্য অর্থ বরাদ্দ।

নেতারা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের শুরুতে ফসলিজমি অধিগ্রহণ করার বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীরা বিক্ষোভ করলে ২০১৬ সালে গুলি করে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, সেই হত্যার বিচার হলে হয়তো পুনরায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো না। তারা আরো বলেন, পুঁজিবাদী শোষণমূলক রাষ্ট্রে শ্রমিককে শোষণ করেই মালিক শ্রেণি ফুলে ফেঁপে ওঠে। আর রাষ্ট্র ও সরকার তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। পাওনা পরিশোধ না করে গুলি করে শ্রমিকদের হত্যার দায়ে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ওই ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় খরচে সুচিকিৎসা নিশ্চিত, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন করতে হবে। এ ছাড়া করোনা লকডাউন চলাকালে শ্রমজীবীদের এক মাসের খাদ্য, নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং বিনা মূল্যে করোনা টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



সাতদিনের সেরা