kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডব

‘মাঝারি নেতা’ ধরা পুলিশের কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মাঝারি নেতা’ ধরা পুলিশের কৌশল

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় নাশকতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের মধ্যম সারির নেতাদের গ্রেপ্তারের কৌশল নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাওলানা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্তের প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকার আট নেতাসহ হেফাজতের শতাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুর থেকে কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেলে বারিধারার একটি মাদরাসা থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনকেই ২০১৩ সালের নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে জানান ডিবির কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লালবাগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি জুবায়ের আহমদকে ২০১৩ সালের তাণ্ডবের মামলায় গতকাল পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে গাঢাকা দিয়েছেন। মাওলানা মামুনুল হকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে খুঁজছে বলেও দাবি করছে হেফাজত সূত্র।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গতকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরের শেরশাহসূরি রোডের বাসা থেকে হেফাজতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, গতকাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে রাজধানীর বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শাপলা চত্বরে সহিংসতার ঘটনার মামলা এবং সম্প্রতি দেশজুড়ে তাণ্ডবের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি জুবায়ের আহমদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীমের আদালত।

সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে হেফাজতের আটজন কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এতে মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তারের আতঙ্ক বিরাজ করছে। মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি আলোচিত শিশুবক্তা হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রবিবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকে। ঢাকায় গ্রেপ্তার নেতাদের বর্তমান সময়ের মামলার পাশাপাশি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বের নাশকতায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

পুলিশের সূত্র জানায়, মধ্যম সারির নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের কার্যক্রম এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণ এবং মধ্যম সারির নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে নাম এলেই শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ঢাকার ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে যাঁদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নাশকতার অভিযোগ রয়েছে এবং আগেরও একাধিক মামলা রয়েছে তাঁদের গ্রেপ্তার করছি। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

জানা গেছে, সম্প্রতি মোদিবিরোধী সহিংসতার ঘটনায় ঢাকার পল্টন ও মতিঝিল থানায় ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় হেফাজতের মামুনুল হকসহ অনেক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় রাজধানীতে ৫৩টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। বাকিগুলো এখনো তদন্তাধীন। পল্টন ও মতিঝিল থানার মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপকমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’



সাতদিনের সেরা