kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ডিএসসিসির গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে কারা!

শম্পা বিশ্বাস   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএসসিসির গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে কারা!

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মোট যানবাহন আছে ৫১৩টি। তবে নগর সংস্থাটির নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা মাত্র ১৪৭। আর ২০০ গাড়ি চলে মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত চালক দিয়ে। বাকি ১৬৬টি গাড়ি কিভাবে চলে তার সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেনি ডিএসসিসির পরিবহন খাত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধিত চালক ছাড়া ডিএসসিসির বাকি গাড়িগুলো চলে অদক্ষ ও অনিবন্ধিত চালক দিয়ে। কখনো কখনো আবার ক্লিনারদেরও দেখা যায় চালকের ভূমিকায়। ফলে সংস্থার গাড়িগুলো দিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এক রিকশাচালক। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিবির বাগিচায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িটি কাজলার দিকে যাচ্ছিল। গাড়ির গতি ছিল বেপরোয়া। বিবির বাগিচা এলাকায় পৌঁছলে গাড়িটি সামনে থাকা রিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রিকশাচালক মোস্তফা (৪০)। তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছায়। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ময়লার গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর গাড়িচালক বশির পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত হন রিকশাযাত্রী হরেন্দ্র দাস (৭০)। টিটিপাড়ার বাসিন্দা হরেন্দ্র জানান, রিকশায় করে কোনাপাড়া যাচ্ছিলেন তিনি। পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তাঁর মাথায় ও ডান হাতে চোট লেগেছে।

ঘটনার বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আব্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের কেউ মামলা করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ডিএসসিসির ময়লার গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চালানোর অভিযোগ বহু পুরনো। বারবার দুর্ঘটনা ঘটালেও প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়নি নগর সংস্থা। মাসখানেক আগে নগরীর টিকাটুলী এলাকায় রাতে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ময়লার গাড়ি। এর আগে ২০ জানুয়ারি দুপুরে দক্ষিণের একটি বর্জ্যবাহী গাড়ি নগরীর দয়াগঞ্জে মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে চালক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টেলিফোন অপারেটর মোহাম্মদ খালিদ ছিটকে পড়ে প্রাণ হারান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ পরিস্থিতির জন্য করপোরেশনের পরিবহন খাতের গাফিলতি আছে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যার বিচার হয়নি। এখানে গাড়ি আছে পাঁচ শর বেশি। অথচ চালক আছে শ-খানেক। এ ক্ষেত্রে নিজস্ব চালক না থাকলে কেন বাইরের লোকদের দিয়ে পরিবহন খাত গাড়ি চালাবে? তাদের লোকবল অনুসারে রাস্তায় গাড়ি নামাক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কারণে পরিবহন খাতের তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ফারুক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চালক বশিরের ব্যাপারে আগামীকাল (রবিবার) ব্যবস্থা নেব। যেভাবে শুনতেছি তাতে এ ঘটনায় মেয়রসাহেব (শেখ ফজলে নূর তাপস) খুব কড়াকড়ি ব্যবস্থাই নেবেন। এমনকি চাকরিচ্যুত হতে পারে।’

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আরো কঠোর হচ্ছি। আমরা অবশ্যই আগামীকালের (রবিবার) মিটিংয়ে ওই চালককে শোকজ এবং সাময়িক বহিষ্কার করব।’

সংস্থার নিবন্ধিত চালকরা দক্ষ দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘যারা আমাদের গাড়ি চালায় তাদের সবার তথ্য আমাদের কাছে আছে। তবে চালকের সংখ্যা একটু কম আছে। এ জন্য আমরা আবার নতুন করে চালক নিয়োগ দেব।’



সাতদিনের সেরা