• ই-পেপার

‘লকডাউন’ বাড়তে পারে এক সপ্তাহ

গবেষণার ফলাফল ইম্প্যাক্টফুল হতে হবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

অনলাইন ডেস্ক
গবেষণার ফলাফল ইম্প্যাক্টফুল হতে হবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব
সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, গবেষণার ফলাফল ইম্প্যাক্টফুল হতে হবে, যা মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়। 

বুধবার (১৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'লাগসই প্রযুক্তির মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, গবেষণা ফল'কে  প্রোটোটাইপ বা নমুনা আকারে শিল্প/ইন্ডাস্ট্রিতে পৌঁছাতে হবে। যাতে তারা পাইলটিং করে সেবা বা পণ্য আকারে বাজারজাত করে সমাজে এটির ইম্প্যাক্ট বা ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। 

সচিব বলেন, লাগসই প্রযুক্তি মানে সস্তা প্রযুক্তি বেছে নেওয়া নয়, বরং এটি হলো আরো বেশি সময়োপযোগী প্রযুক্তি বেছে নেওয়া। প্রযুক্তি বাংলাদেশের উপযোগী হওয়া উচিত, বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উপযোগী হতে বাধ্য করা উচিত নয়।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ইম্প্যাক্ট বা প্রভাবহীন উদ্ভাবন অর্থাৎ এমন গবেষণা যা বাস্তবে মানুষের কোনো কাজে বা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেনা সে রকম গবেষণা থেকে আমাদের সরে আসা উচিত।

সেমিনারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। 

এ ছাড়া সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানবৃন্দ জুম প্লাটফর্মে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ আলী ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা
ছবি: কালের কণ্ঠ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কার্যালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কার্যালয় প্রাঙ্গণে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গনকে তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ধূমপায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর কারণে অধূমপায়ীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তাই কর্মক্ষেত্রে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। সেই বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যুরো এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এ উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যুরোর আওতাধীন বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও পর্যায়ক্রমে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরামের সহআহ্বায়ক তনুশ্রী হালদার বলেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ঘোষণার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তামাকবিরোধী মায়েদের, শিক্ষক ও যুব ফোরামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। 

এ সময় তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

প্রশ্নোত্তরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি।’ সেইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো :

* দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে।

* দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।

* সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত ‘জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ সংসদে, পরে এক্সপাঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ সংসদে, পরে এক্সপাঞ্জ
ফাইল ছবি

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হইচই ও বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর অন্য এক সংসদ সদস্যের আপত্তির মুখে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়। তবে পরে ওই সংসদ সদস্য ধর্ষণের ঘটনার সুনির্দিষ্ট মামলার তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন।

বুধবার (১৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা চলাকালে এই চিত্র উঠে আসে।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, ‘৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ডপিছু ৯০টি করে পরিবার পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে, তাদের অবস্থাটা কী হবে?’

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলোতে ইতিমধ্যে দেখেছি—ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদের ভাষা জানতে হবে, সেভাবে বলতে হবে।’ তিনি এই বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুরের এমপির ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।

ডেপুটি স্পিকারের এই ঘোষণার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এক্সপাঞ্জ তো হবে যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন অথবা অসংসদীয় শব্দ যদি ব্যবহার করে থাকেন। আমার ধারণা উনি এ ধরনের (অসংসদীয়) কথা বলেননি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সহকর্মীর এই প্রতিবাদের পর ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে পুনরায় কথা বলার সুযোগ দেন। তখন তাজউদ্দিন খান তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি সংসদে বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য ছিল, তা সময়ের অভাবে আগে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। ওসি এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে এটি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহসম্পাদক এনামুল হককে (অভিযোগের) প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

দুই সংসদ সদস্যের এই যুক্তি-তর্ক ও তথ্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট, সেটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না; এটি সারা দেশের মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।

‘লকডাউন’ বাড়তে পারে এক সপ্তাহ | কালের কণ্ঠ