kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

মামুনুল-বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামুনুল-বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি

দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সন্ত্রাসের অপরাধে অবিলম্বে মামুনুল-বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে। আজ বিকেল ৩ টায় অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারের বিষয় ছিল ‘জামায়াত-হেফাজত চক্রের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধকরণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী সন্ত্রাসী উত্থানের পর থেকে আমরা ক্রমাগত বলছি জামায়াত ও হেফাজতকে পৃথক দল কিংবা পরস্পরবিরোধী মনে করার কোনো কারণ নেই। হেফাজতের ১৩ দফা জামায়াতেরই পুরনো দাবি।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন মাঠপর্যায়ের হেফাজত কর্মীদের গ্রেপ্তার করলেও মামুনুল, বাবুনগরীর মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসের গডফাদারদের এখন পর্যন্ত কেন গ্রেফতার করছে না এটা আমাদের বোধগম্যের বাইরে। হেফাজতের মতো জঙ্গী সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যে কোনও ধরনের সমঝোতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্য আত্মঘাতী হবে না- অন্তিমে বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা ও পশ্চিমের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিতে চাইছে।’

আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘হেফাজত-এ ইসলাম জামায়াতের মতো একই ধারায় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়- তা সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজতের তাণ্ডব ও কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত পরিস্কার। স্বাধীনতা মানে না বলেই তারা সুবর্ণজয়ন্তী বানচাল করার চেষ্টা করেছে।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘হেফাজতের বর্তমান কমিটির অধিকাংশ জামায়াত-এর রাজনীতির সাথে যুক্ত। মোদীবিরোধী বিক্ষোভ ছিল মূলত বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী নস্যাৎ করার চক্রান্ত। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে তালেবানি অভ্যুত্থান ঘটানো। ভবিষ্যতে তারা সকল ইসলামিক দলগুলোকে এক জায়গায় এনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করছে এবং বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।’

কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘হেফাজত যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে মাদ্রাসায় বাচ্চাদের ভর্তি করে আমরা কেন তাদের সদস্য তৈরি করে দিচ্ছি? দারিদ্রতার কারণে বাবা মা তাদের কোমলমতি শিশুদের মাদ্রাসায় পাঠায়। আমরা দরিদ্র মা-বাবাদের সন্তানের জন্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান-হোস্টেল এগুলো তৈরি করছি না। এ বিষয়গুলো আমাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থায় রাখতে হবে। বাউলদেরকে আমরা মূল্যায়ন না করে হেফাজতকে মূল্যায়ন করি। বাংলাদেশের বাউলদের সম্প্রীতির গান ও তাদের আদর্শ জনগণের নিকট প্রচার করতে হবে।’



সাতদিনের সেরা